প্রচণ্ড মাথাব্যথাও হতে পারে স্ট্রোকের লক্ষণ!

স্ট্রোকে মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের ঝুঁকি বেশি। এখন আর বয়স্কদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি সীমাবদ্ধ নেই, কম বয়সীদের মধ্যেও দেখা দিচ্ছে এটি। স্ট্রোক মূলত মাথায় হয়।

মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে বা নালি ছিঁড়ে গেলে রক্ত পৌঁছাতে পারে না নির্দিষ্ট জায়গায়। ফলে সেই অংশের কোষ রক্তের অভাবে দ্রুত মরে যায়। ফলে স্ট্রোকের ঘটনা ঘটে।

যে কোনো সময় হঠাৎ করেই হতে পারে স্ট্রোক। তবে যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তাদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি বশি। অনিয়মিত জীবনযাপন ও স্থূলতাও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

স্ট্রোকের দুটি ধরন আছে- ইস্কেমিক ও হেমোরেজিক। ইস্কেমিক স্ট্রোক রক্ত জমাট বাঁধার কারণে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।
অন্যদিকে রক্তনালি ফেটে যাওয়ার কারণে হেমোরেজিক স্ট্রোক হয়। হেমোরেজিক স্ট্রোকের তুলনায় ইস্কেমিক স্ট্রোক অনেক বেশি সাধারণ।

স্ট্রোকের কিছুদিন আগ থেকেই শরীরে বেশ কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। যদিও অনেকেই তা অবহেলা করেন। যেমন- ক্লান্তিভাব, ঘাড়ে বা হাতে ব্যথা, হাঁটাচলা, কথাবার্তায় অসুবিধা, কোনো কাজে মনোযোগে অভাব কিংবা মুখের একপাশ বেঁকে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
যদিও ব্যক্তিভেদে লক্ষণেও ভিন্নতা দেখা দেয়। এক সমীক্ষায় বেশ স্ট্রোক থেকে বেঁচে ফেরা সারভাইভররা জানিয়েছেন আরও একটি লক্ষণের কথা, যা স্ট্রোকের আগ দিয়ে দেখা দেয়। সেটি হলো মাথাব্যথা। বেশিরভাগ মানুষই মাথাব্যথার সমস্যাকে সাধারণভাবেই নেন।

তবে মাথাব্যথা একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা চিহ্ন হতে পারে স্ট্রোকের। বিশেষজ্ঞরা জানান, উভয় ধরনের স্ট্রোকের ক্ষেত্রেই, মাথাব্যথা হতে পারে। হেমোরেজিক স্ট্রোকের একটি সাধারণ সতর্কতা চিহ্ন হলো তীব্র মাথাব্যথা, যা অকারণেই হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যারোটিড ধমনী থেকে স্ট্রোক শুরু হতে পারে (ঘাড়ের এলাকা যা মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহের অনুমতি দেয়)। ফলে কপালে তীব্র মাথাব্যথা হতে পারে।
প্রিমিয়ার নিউরোলজি সেন্টার (ইউএস) অনুসারে, প্রায় ৬৫ শতাংশ রোগী স্ট্রোকের আগে মাথাব্যথা অনুভব করেন।

সাধারণ মাথাব্যথা নাকি স্ট্রোকের, চিহ্নিত করার উপায় কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোকের কারণে মাথাব্যথা হলে আপনি এক বা উভয় চোখের স্পর্শ বা দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন।
প্রিমিয়ার নিউরোলজি সেন্টারের তথ্য অনুসারে, স্ট্রোকের কারণে সৃষ্ট মাথাব্যথা গুরুতর মাথাব্যথা হিসেবে বিবেচিত, যা কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের মধ্যেই ফিরে ফিরে আসে।
অনেক সময় স্ট্রোক হওয়া স্থানেই মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একটি অবরুদ্ধ ক্যারোটিড ধমনী কপালে মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।

আবার অনেকে জানিয়েছেন বামদিকে বা কপালে তীব্র মাথাব্যথা অনুভব করেছেন। তাই স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মাথাব্যথার জন্য কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান নেই, এটি মাথার যে কোনো জায়গাতেই ঘটতে পারে।

স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণ কী কী?
স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণগুওলো ‘ফাস্ট’ শব্দ দিয়ে মনে রাখতে পারে।
* এফ- ফেস বা মুখ (ব্যক্তির মুখ একপাশে ঝুলে যেতে পারে)।
* এ- আর্মস বা হাত (স্ট্রোকের আগে যে কোনো বা উভয় হাতে দুর্বলতা বা অসাড়তা অনুভব হতে পারে)
* এস- স্পিচ বা বক্তৃতা (কথা বলতে সমস্যা হতে পারে)। আবার অন্যরা তাদের কী বলছে তা বুঝতেও তাদের সমস্যা হতে পারে।
* টি- টাইম বা সময় (আপনি যদি এই লক্ষণগুলোর মধ্যে কোনটি দেখতে পান তবে অবিলম্বে অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন ও রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান)।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *