মধু ও লবঙ্গ একসঙ্গে খেলে কী হয়?

মধু এবং লবঙ্গ বিভিন্ন অসুখের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে বহু যুগ ধরেই। এই দুই উপাদানে আছে বিভিন্ন উপকারিতা। এর নানা রকম ‍ওষুধি গুণ আমাদের সুস্থ থাকতে সহায়তা করে। ঝাঁঝালো স্বাদের জন্য পরিচিত লবঙ্গ অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত। নিয়মিত লবঙ্গ খেলে তাই নানারকম জীবাণুর সংক্রমণ থেকে দূরে থাকা যায়।

এদিকে মধুরও রয়েছে আরও অনেক গুণ। সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত মধু খাওয়ার বিকল্প নেই। ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যা দূর করতে মধু বেশ কার্যকরী। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে। মধুর সঙ্গে লবঙ্গ যোগ করে খেলে পাওয়া যায় আরও বেশি উপকারিতা। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

গলা ব্যথা দূর করে
নিয়মিত মধু খেলে গলায় কফ জমার সমস্যা দূর হয়। সাধারণত গলা ব্যথা সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। তাই মধুর সঙ্গে লবঙ্গ মিশিয়ে খেলে সংক্রমণ দূর হয়। কমে গলা ব্যথা। প্রথমে তিনটি লবঙ্গের কুঁড়ি ভেঙে নিন। এরপর এর সঙ্গে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে পাঁচ ঘণ্টার মতো রেখে দিন। এরপর লবঙ্গ তুলে মধুটুকু খেয়ে নিন। এরপর পান করুন একগ্লাস উষ্ণ গরম পানি। গলা ব্যথা দূর হবে।

বমিভাব দূর করে
অনেকেরই বমি কিংবা বমিভাবের সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে যাত্রাপথে বমির সমস্যা হয় অনেকেরই। সংক্রমণ কিংবা হজমে সমস্যার কারণেও হতে পারে বমি। মধু ও লবঙ্গের মিশ্রণ খেলে এই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়। প্রথমে পাঁচটি লবঙ্গ শুকনো খোলায় ভেজে নিন। এরপর ভালোভাবে গুঁড়া করে নিন। এবার সেই গুঁড়ার সঙ্গে মেশান সামান্য মধু। বমি হলে বা বমিভাব হলে এই মিশ্রণ থেকে কিছুটা খেয়ে নিন। সমস্যা দূর হবে।

ব্রণ দূর করে
ব্রণের সমস্যা বেশ নাছোড়বান্দা। একবার দেখা দিলে সহজে দূর হতে চায় না। অনেক সময় আবার ব্রণ সেরে গেলেও দাগ থেকে যায়। এসব সমস্যার সমাধান পেতে নিয়মিত খেতে পারেন মধু ও লবঙ্গ। মধুতে রয়েছে ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, ভিটামিন বি ও পেপটাইড। এসব উপাদান ত্বকের লালচেভাব দূর করতে সাহায্য করে। এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যের কারণে ত্বকে সংক্রমণ এবং ব্রণের ভয় থাকে না। মধু খাওয়ার পাশাপাশি ব্যবহার করতে পারেন ত্বকেও। সেজন্য এক চা চামচ মধুর সঙ্গে এক চিমটি লবঙ্গের গুঁড়া মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এরপর সেই মিশ্রণ ব্রণের উপর লাগিয়ে সারারাত রেখে দিন। সকালে উষ্ণ গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতেও ব্রণ দূর হবে।