তাজমহলে যা দেখবেন

মুঘল আমলের অনন্য কীর্তি তাজমহল সম্রাট শাহজাহানের চতুর্থ স্ত্রী মমতাজকে স্মরণ করে আগ্রায় স্থাপিত হয়। ১৬৩১ সালে ১৪তম মেয়েকে জন্ম দিতে গিয়ে মমতাজের মৃত্যুর পর মার্বেল পাথর দিয়ে নির্মিত হয় এই স্থাপনা। ১৬৩২ সালে নির্মাণ কার্যক্রম শুরু ও ১৬৫৩ সালে তা সমাপ্ত হয়।
তাজমহল নির্মাণের বিষয়ে ইতিহাসবেত্তাদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক থাকলেও প্রকৃতপক্ষে উস্তাদ আহমেদ লাহুরির তত্ত্বাবধানে প্রায় ২ হাজার পারস্য, তুর্কি অটোমান ও ইউরোপের সুনিপুণ নকশাকার এবং কারিগররা পারস্য ও মুঘল স্থাপত্যের ভিত্তিতে নির্মাণ করেন।

১৬৬৬ সালে সম্রাট শাহজাহানের মৃত্যুর পর স্ত্রী মমতাজের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়। ১৯৮৩ সালে জাতিসংঘের ইউনেস্কো স্থাপনাটিকে ভারতীয় মুসলিম শিল্পের সোনালি অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করে। আজ মুঘলদের সেই সেরা কীর্তি সম্পর্কে আপনাদের বলবো-

তাজমহলে যা দেখবেন
প্রায় ৪২ একর জায়গা জুড়ে গড়ে ওঠা তাজমহল কমপ্লেক্স প্রধানত ৫ ভাগে বিভক্ত- প্রবেশের ফটক, বাগান, মসজিদ, অতিথিশালা ও চারটি মিনার নিয়ে তৈরি সম্রাজ্ঞী মমতাজের সমাধিসৌধ। এর মূল চত্বর সুরক্ষিত দুর্গের মতো তিন দিকে প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। প্রাচীরের বাইরে রয়েছে সম্রাট শাহজাহানের অন্য ৬ জন স্ত্রী ও মমতাজের প্রিয় পরিচারিকাদের সমাধি। প্রাচীরের ভেতরের দেয়ালগুলো নকশা আঁকা রয়েছে। এসব প্রাচীর দিয়ে গম্বুজাকৃতির স্থাপত্য গড়ে তোলা হয়েছে যা বর্তমানে মিউজিয়াম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে প্রবেশ করার ফটক মার্বেল পাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া এখানে রয়েছে মসজিদ ও অতিথিশালা যা পর্যটকদের মুঘলদের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়।

তাজমহল চত্বরের সামনের দিকে রয়েছে একটি ‘চারবাগ’। গোটা বিশ্বের মানুষ যাকে স্বর্গের বাগান হিসেবে চেনে। ১৬টি ফুলের বাগানে রয়েছে চলাচলের রাস্তা ও নয়নাভিরাম ঝরনা। জনশ্রুতি রয়েছে, সম্রাট শাহজাহান স্বীয় স্ত্রী মমতাজকে স্মরণ করে যমুনা নদীর দুই পাশে মার্বেল পাথরের দুটি মহল তৈরি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাজমহল নির্মাণে অধিক খরচের কারণে ভারতে ভয়ংকর দুর্ভিক্ষ হওয়ায় মার্বেল পাথরের আরেকটি মহল নির্মাণে বিরত হন। এছাড়া পুত্র আওরঙ্গজেব কর্তৃক কারারুদ্ধ হওয়া ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলাও এর পেছনে দায়ী হতে পারে।

তাজমহল থেকে এক মাইল দূরে যমুনা নদীর ডান দিকে আগ্রা কেল্লা অবস্থিত। মুঘল শাসনের প্রথমদিকে সৈন্যরা এখানে অবস্থান করলেও পরবর্তীতে মুঘল রাজপরিবারের নানা কর্মকাণ্ডের স্থান হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।

কীভাবে যাবেন তাজমহলে
ঢাকা থেকে দিল্লিতে রেলযোগে অথবা বাসে সহজেই তাজমহলে ভ্রমণ করা যায়। রেলে ভ্রমণ করতে চাইলে দিল্লির আনন্দবিহার স্টেশনে পৌঁছে পুনরায় রেলযোগে আগ্রায় যেতে হবে। নিউ দিল্লি রেলওয়ে স্টেশন বা হযরত নিজামুদ্দিন রেলওয়ে স্টেশন থেকে রেলযোগে আগ্রা যেতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। তবে রেলের বদলে বাসেও ভ্রমণ করা যায়। বাসে যেতে সময় ব্যয় হয় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার মতো। এছাড়া বিমানযোগে যাওয়ার জন্য বাগডোগরা থেকে দুই ঘণ্টায় দিল্লি পৌঁছানো সম্ভব ও তারপর রেল বা বাসযোগে আগ্রা যেতে হবে।

তাজমহল ভ্রমণে ব্যয়
রেলে দিল্লি যেতে ১৫০০-২০০০ রুপি ও বিমানে যেতে ২৮০০-৪০০০ রুপি ব্যবহার করা হবে। বাস কিংবা ট্যাক্সিতে যেতে ৫০০-১২০০ রুপি ব্যয় হবে। তাজমহলে জনপ্রতি টিকেট মূল্য ৫১০ রুপি।

কোথায় থাকবেন
সাই প্যালেস, হোটেল সাফারি, ম্যাক্স গেস্ট হাউস, দ্য আগ্রা গ্রান্ডে, ট্যুরিস্ট রেস্ট হাউজ, রে অব মায়া, থমাস হোম স্টে, সেভেন হিলস টাওয়ারসহ অন্যান্য হোটেল এবং রেস্ট হাউজে ৬০০ থেকে ১৫০০ রুপিতে দুজন থাকার জন্য কক্ষ পাওয়া সম্ভব।

টিপস
১. অতিরিক্ত গরমে যাবেন না। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি তাজমহলে ভ্রমণ করার উপযুক্ত সময়।
২. তাজমহলের এন্ট্রি টিকেট দেখিয়ে আগ্রা কেল্লায় যদি প্রবেশ করা হয় তবে ৩০ রুপি ব্যয় হবে। কিন্তু এন্ট্রি টিকেট না নিয়ে গেলে আলাদা করে ৫০০ রুপি ব্যয় করে টিকেট কাটতে হবে।
৩. রাতে পুরোটা সময় আগ্রার তাজমহল দেখার উত্তম সময়।
৪. তাজমহলে প্রবেশের সময়ে সঙ্গে পাসপোর্ট রাখুন।
৫. শুক্রবার তাজমহলে প্রবেশ করা যাবে না। কারণ ওই দিন জুমার সালাত হয়।