করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে কী খাবেন?

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন কারও কারও ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর হালকা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যদিও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার ঘটনা খুবই কম, তবু ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে যদি আপনি জ্বর বা শরীর ব্যথার মতো কিছু হালকা লক্ষণ অনুভব করেন তখন কী করবেন? যেমন ধরুন, জ্বরজ্বর বোধ করলে আমরা গরম গরম স্যুপ খেলে বা ধোঁয়াওঠা এককাপ চা খেলে আরামবোধ করি। তেমনই ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে কী খেলে আরামবোধ করবেন এবং কোন খাবারটি বেশি উপকারী হবে সে সম্পর্কেও জেনে নেওয়া জরুরি।

ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে প্রদাহ অনুভব করতে পারেন
রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র অনুযায়ী, কেউ কেউ করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন গ্রহণের পরে কিছু প্রতিকূল পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনুভব করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলো শরীরের মধ্যে প্রদাহের ফলাফল। শরীর তখন স্পাইক প্রোটিনে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং উদ্দীপিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য কাজ করে। জ্বর, ভ্যাকসিন নেওয়ার স্থান কিছুটা ফুলে যাওয়া, শরীরের ব্যথা এমন কিছু কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এর মানে হলো আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা লড়াই করছে।

দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষত এমন খাবার খেতে হবে যাতে পানির পরিমাণ বেশি থাকে। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের পরামর্শ অনুযায়ী, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে প্রচুর তরল খাবার খাওয়া জরুরি। এর অর্থ হলো প্রদাহ বিরোধী খাবার যা আমাদের ভেতর থেকে আর্দ্র রাখে, সেসব খাবার দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করে।

স্যুপ, প্রদাহ বিরোধী এবং হাইড্রেটিং খাবার
করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে জ্বরজ্বর অনুভব বোধ করলে মুরগির মাংসের স্যুপ হতে পারে একটি উপকারী খাবার। সেই স্যুপে মটরশুটি, মসুর ডাল, আলু, ব্রোকলির মতো অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধিকারী খাবার যোগ করলে আরও বেশি উপকার পাবেন।

আপনি যদি আমিষভোজী হন তবে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে মুরগির মাংসের স্যুপ খেতে পারেন নিশ্চিন্তে। এতে হালকা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বা প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য থাকে। এটি যদিও নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় যে কোন উপাদানটি বেশি উপকারী তবে মুরগির মাংস, গাজর, সেলারি, পার্সলে এবং মরিচ দিয়ে এই স্যুপ রান্না করলে প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করা সহজ হবে। এই স্যুপে গ্লাইসিন এবং আরজিনাইন নামে অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে, যা শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি প্রভাব ফেলে। সুতরাং, যদি আপনার কিছু খেতে ইচ্ছা না-ও হয় তবে একবাটি মুরগির মাংসের স্যুপ খেয়ে নিন। যারা আমিষ খান না বা এড়িয়ে চলেন তারা যেকোনো সবজির স্যুপ খেতে পারেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *