পাকিস্তান বোর্ডকে একহাত নিলেন শোয়েব আখতার

স্পিনার ফাওয়াদ আহমেদ করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রথমে। তারপরও পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে এরপর যখন সাত ক্রিকেটার আর কোচিং স্টাফ করোনায় আক্রান্ত হলেন, এরপর টনক নড়ল পিসিবির, স্থগিত হয় পিএসএল। বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তহীনতায় বেশ চটেছেন শোয়েব আখতার। ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলে ঝেড়েছেন ক্ষোভ।

পাকিস্তান ক্রিকেটের সাবেক এই তারকার অভিমত, এমন সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। ফলে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের হস্তক্ষেপও কামনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেলে শোয়েব বলেন, ‘আপনারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলছেন, যার ফলে দেশের সুনাম নষ্ট হয়েছে। এজন্যে পিসিবি সভাপতির জবাবদিহি করতে হবে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মাননীয় আদালতকে তদন্তের অনুরোধ জানাই। সবাই ওয়াসিম খানের দোষ দিচ্ছেন, তাকে এনেছে কে এখানে? এহসান মানি সাহেব। তাকে এসে এসবের জবাব দিতে হবে। আপনি পাকিস্তানের সুনাম নষ্ট করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানাচ্ছি।’

গত ২০ ফেব্রুয়ারি পিএসএলের ষষ্ঠ মৌসুম শুরু হয়। বিপত্তির শুরু চলতি মাসের শুরু থেকে। যখন অস্ট্রেলিয়ান স্পিনার ফাওয়াদ করোনাক্রান্ত হন। এরপরও জৈব সুরক্ষা বলয় জারি রেখে পিএসএল চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল ছিল পিসিবি। তবে এরপর গত বৃহস্পতিবার লিগের সাতজন ক্রিকেটার ও স্টাফ করোনাক্রান্ত হলে লিগ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পিসিবি।

সংক্রমণের পরও লিগ চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ধুয়ে দিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি দল লাহোর কালান্দার্স, তুলেছে জৈব সুরক্ষা বলয় নিয়ে প্রশ্নও। শোয়েবও কণ্ঠ মেলালেন তার সঙ্গেই। বললেন, ‘চিকিৎসক প্যানেলের দায়িত্ব ছিল এটা আর জৈব সুরক্ষা বলয় ঠিকঠাক বজায় রাখা উচিত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত হওয়া উচিত। ওষুধের ব্যবস্থাপত্র ঠিকঠাক লিখতে না পারা ডাক্তাররাই এখানকার চিকিৎসক। আমার খেলোয়াড়ি জীবনে আমি নিজেই দেখেছি, চিকিৎসকরা এক্স-রেও করতে জানে না! সে অবস্থা থেকে উন্নতি হয়নি এখনো।’

খেলোয়াড়রা জৈব-সুরক্ষা বলয় ভাঙার পেছনে দায় আছে আয়োজকদেরও। শোয়েবের ভাষ্য, ‘ড্যারেন সামি বাইরে যাচ্ছে, খেলোয়াড়রা বিয়েতে যাচ্ছে, চুল কাটছে, সব জৈব সুরক্ষা বলয় ভেঙে! একটা হোটেল বুক করে ফেলতে পারত পিসিবি। সেটা হয়নি, কারণ টেপ বলের টুর্নামেন্টও যারা আয়োজন করেননি তারাই পিএলএর আয়োজন করছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *