রাতের খাবারের আগে ও পরে

খাবার নিয়ে নানা পরিকল্পনা করলেও শেষ পর্যন্ত তার বাস্তবায়ন কমই হয়। কারণ আপনি যতই কঠোর ডায়েট মেনে চলার চেষ্টা করুন না কেন, লোভনীয় নানা খাবারের প্রলোভন এড়িয়ে চলা সত্যি কঠিন। দেখা গেল আপনি সারাদিন নিয়ম মেনে স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেন কিন্তু রাতের দাওয়াতে পেটপুরে খেলেন রেস্টুরেন্টের মশলাদার সব খাবার। এর ফলে আপনার ডায়েট পরিকল্পনা ভণ্ডুল হয়ে যায়। আর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে আপনার শরীরে। যদি নানা চেষ্টার পরেও ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন তবে বুঝে নেবেন অবহেলা আপনার দিক থেকেই রয়েছে।

একইসঙ্গে স্বাস্থ্যকর ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে তা শরীরের জন্য কোনোরকম উপকার বয়ে আনে না। বরং নানা রকম রোগ ডেকে আনতে পারে। অনেক সময় নানা কাজের চাপে বাধ্য হয়ে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হয়। এসব কারণে ধীরে ধীরে আপনি অনেকরকম অসুখের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। রাতের খাবারের দিকে নজর দিলে এই সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

সঠিক রুটিন
সবার আগে সঠিক পরিকল্পনা করা জরুরি। পরিকল্পনাহীন কোনো কিছুই ঠিকভাবে হয় না। তবে খুব কঠিন রুটিন না করে চেষ্টা করুন সহজভাবে সাজাতে। এমন রুটিন করুন যা মেনে চলা আপনার জন্য সহজ হবে। প্রতিদিন মেনে চলতে পারেন এমন রুটিন করুন। কয়েকদিন মেনে চলে তারপর ছেড়ে দিলে বরং আপনার ক্ষতি বেশি হবে। একটি সহজ ও সঠিক রুটিন আপনার সুস্বাস্থ্যের সহায়ক হতে পারে।

পরিমাণ নির্ধারণ করুন
এখনকার ব্যস্ত জীবনে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা পছন্দের খাবার তৈরি করে খাওয়ার জন্য শুধু রাতের সময়টুকুই মেলে অনেকের ক্ষেত্রে। কিন্তু আপনি যদি নিয়মিত রাতের বেলা পেটপুরে খেতে থাকেন তবে ওজন কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। বিশেষ করে পেটের মেদ বাড়তেই থাকবে। এর কারণ হলো, রাতের বেলায় আমাদের শারীরিক কার্যকলাপ তেমন ঘটে না বললেই চলে। তাই রাতে খেতে হবে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার। এমন খাবার যা সহজে হজম হয়। ভাজাভুজি, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাবেন না। বাইরের খাবার বাদ দিয়ে ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার খান নিয়মিত। সেদ্ধ ও ঝলসানো খাবার কিংবা সালাদ খেতে পারেন। পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট মাপে খাবার খেতে চেষ্টা করুন। বেশি খাবার খাওয়াও আপনার ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। আর জানেনই তো, বাড়তি ওজন মানেই নানা অসুখের ভয়।

সঠিক সময় নির্ধারণ
রাতের খাবারের ক্ষেত্রে অবশ্যই একটি সঠিক সময় নির্ধারণ করুন। চেষ্টা করুন প্রতিদিন একই সময়ে রাতের খাবার খেতে। সবচেয়ে ভালো হয় সন্ধ্যা সাতটার ভেতর রাতের খাবার খেয়ে নিতে পারলে। এতে খাবার হজমের জন্য যথেষ্ট সময় মিলবে। তবে এই রুটিন মেনে চলা সম্ভব না হলে অন্তত আটটার ভেতর রাতের খাবার খেয়ে নিন। অনেকেই আবার রাতের খাবার খাওয়ার পরপরই ঘুমাতে যান। এই অভ্যাস বাদ দিতে হবে। খাওয়ার অন্তত ঘণ্টা দুই পরে ঘুমাতে যান।