সাকিবকে জোর করে খেলানো যেত না?

সাকিব আল হাসানকে নিয়ে টালমাটাল গোটা বাংলাদেশ ক্রিকেট। সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফর থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন টাইগার অলরাউন্ডার। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) অংশ নিতে এপ্রিলে শ্রীলঙ্কা সফরেও যাবেন না তিনি। তাকে চাইলে জোর করে আটকাতে পারতো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তবে সে পথে হাঁটেনি বিসিবি।

কেউ জাতীয় দলের হয়ে খেলতে না চাইলে তাকে আটকাবে না বিসিবি। তবে প্রশ্নটা যখন টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে, যে ফরম্যাটে শেষ ৭ ম্যাচের ৬টিতেই হার টাইগারদের। এই ফরম্যাটে সাকিব খেলতে অস্বীকৃতি জানালেও তার ছুটি কেন মঞ্জুর করলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড? এমন প্রশ্নের জবাবে উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। পুরো কারণটা নিজেই খোলসা করেন তিনি।

সোমবার মিরপুরে বোর্ড সভাপতি বলেন, ‘সাকিবকে কি খেলানো যেত না জোর করে? অবশ্যই যেত, হয়তো সে খেলত। কিন্তু আমরা ওইটা চাচ্ছি না। আমরা চাই যারা খেলাটাকে ভালবাসে তারাই খেলুক। জোর করে আমরা কাউকে খেলাতে চাই না।’

ধরেন জোর করে চেষ্টা করলাম। কিন্তু জোর করে তো খেলানোর কোনও মানে হয়না। আমার মনে হয় তাতে আমরা ভবিষ্যতে আগাতে পারছি না, পিছনের দিকে যাচ্ছি। এখন সবাই যদি ফ্রি থাকে ওপেন থাকে, কাউকে জোর করব না।
– নাজমুল হাসান পাপন, সভাপতি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড

সাকিব ইস্যুতে আজ সোমবার তড়িঘড়ি করে বোর্ড সভায় বসেছিলেন বিসিবির কর্তারা। সেখানে সভাপতি পাপন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বোর্ড পরিচালকগণ ও দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, হাবিবুল বাশার সুমন। সভা শেষ করে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়া পাপন বলেন, যে সময় সাকিবকে দলের প্রয়োজন ছিল, তখনই তার থেকে এমন সিদ্ধান্ত আশা করেননি তিনি।

পাপন জানান, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনও যায় আসে না। তবে আমার কাছে সব থেকে বেশি খারাপ লেগেছে যে সময়টাতে যে সমস্ত খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সব থেকে বেশি আশা করেছিলাম, দলকে সাপোর্ট দিবে, আমাদের কে আশ্বস্ত করবে, এসে বলবে পাপন ভাই, আমরা নিশ্চিত জিতবো। এই জায়গাতে একটু কষ্ট লেগেছে।’