মাশরাফির জন্য বিদায়ী সংবর্ধনার প্রস্তুতি

জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) দিয়ে ফিরছে ঘরোয়া মৌসুম ক্রিকেট। সব ঠিক থাকলে আগামী মার্চে শুরু হবে এনসিএলের আসন্ন আসর। দেশের সাতটি বিভাগের সঙ্গে ঢাকা মেট্রো, সব মিলিয়ে আটটি দল নিয়ে মাঠে গড়ায় এনসিলের খেলা। এনসিএলে অংশ নেওয়ার জন্য মাশরাফি বিন মুর্তজাকে নিয়ে দল ঘোষণা করেছে খুলনা বিভাগ। এই টুর্নামেন্ট চলাকালীন ঘরের মাঠে মাশরাফির সঙ্গে আব্দুর রাজ্জাককে সংবর্ধনা দিতে চায় খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা।

দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও মার্চে এনসিএল শুরুর ব্যাপারে ইতিবাচক বিসিবি। এজন্য ক্রিকেটারদের ফিটনেস টেস্ট নেওয়া শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই ফিটনেস টেস্ট চলবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। এনসিএলের জন্য বিভাগীয় দলগুলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে প্রাথমিক স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের তালিকা পাঠিয়েছে। যেখানে ৩৩ সদস্যের স্কোয়াড দিয়েছে খুলনা বিভাগ।

এই ৩৩ সদস্যের দলে নাম আছে মাশরাফির। তিনি খেলবেন কিনা সেটি অবশ্য নিশ্চিত নয়। তবে মাশরাফি না খেলার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় তার নাম রেখেছে খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা। সবশেষ ২০১৭-২০১৮ মৌসুমে জাতীয় লিগে খুলনার হয়ে খেলেছেন মাশরাফি। তালিকায় নাম আছে সাকিব আল হাসানের। খুলনার সফল অধিনায়ক আব্দুর রাজ্জাককেও দলে রাখা হয়েছিল। নির্বাচকের দায়িত্ব নেওয়া রাজ্জাক ক্রিকেটকে বিদায় ঘোষণা দেওয়ায় তার নাম সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এসএম মুর্তজা রশিদী দারা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আমরা এনসিএলের জন্য ৩৩ সদস্যের একটি স্কোয়াড দিয়েছি বিসিবিকে। সেখানে মাশরাফি, সাকিব সহ রাজ্জাককেও রেখেছিলাম। তবে পরে যখন নিশ্চিত হলাম রাজ্জাক খেলা ছেড়েছে, ওর নাম সরিয়ে নিয়েছি। যদিও তার পরিবর্তে এখনও কোনও ক্রিকেটার নাম দেইনি আমরা। মাশরাফি-রাজ্জাককে রাখা হয়েছে তাদের সম্মান দিতে। মাশরাফি খেলে ছাড়বে কিনা সেটা তো আমরা জানি না। আমাদের বলেনি। তার নাম দিতে আমরা বাধ্য। খেলা বা না খেলাটা তার সিদ্ধান্ত।’

২০০৯ সালের পর আর টেস্টে ফরম্যাটে খেলেননি মাশরাফি। অবসর নিয়েছেন টি-টোয়েন্টি থেকে। ওয়ানডে ফরম্যাটে অধিনায়কের দায়িত্ব ছাড়ার পর জাতীয় দলে আর খেলা হয়নি নড়াইল এক্সপ্রেসের। মাশরাফি ক্রিকেটকে বিদায় না বললেও তার সঙ্গে আলোচনা করবে খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা। মাশরাফি রাজি থাকলে তাকে এবং রাজ্জাককে বিদায়ী সংবর্ধনা দিতে চায় তারা।

এ প্রসঙ্গে এসএম মুর্তজা রশিদী দারা বলেন ‘আমরা বোর্ডকে চিঠি দেব। খুলনায় খেলা হলে মাশরাফি আর রাজ্জাককে সংবর্ধনা দিতে চাই। তবে মাশরাফি তো খেলা ছাড়ার বিষয়ে কিছু বলেনি। সে সংবর্ধনা না নিতে চাইলে ভিন্ন হিসেব। তবে রাজ্জাককে আমরা বড় করে বিদায়ী সংবর্ধনা দেব।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘তারা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করছে। রাজ্জাক তো খুলনা বিভাগের সফল অধিনায়ক। মাশরাফি অনূর্ধ্ব-১৭ থেকে খুলনার হয়ে খেলে। আমরা তো টাকা পয়সা দিতে পারি না তাদের। সম্মান জানাতে কার্পন্য করতে চাই না। তাদের প্রতি সম্মান দেখাতেই এনসিএলের স্কোয়াডে রাখা হয়েছে। আমি সিরিয়াল অনুযায়ী বলতে পারবো। এক নম্বরেই আছে মাশরাফির নাম, দুইয়ে রাজ্জাক, তিনে সাকিব, চারে ইমরুল, পাঁচে আছে বিজয়ের নাম।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *