সোশ্যাল মিডিয়ায় চাকরিপ্রার্থীরা যেসব ভুল করেন

সোশ্যাল মিডিয়াকে চাকরিপ্রার্থীরা খুব বেশি গুরুত্ব দেয় না। অথচ চাকরির জন্য সোশ্যাল মিডিয়া অনেক বেশি ভূমিকা পালন করে। ২০১৯ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, ৮৪ শতাংশ চাকরিপ্রার্থী মনে করেন চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো ভূমিকা নেই। ৫০ শতাংশ চাকরিপ্রার্থী বলছেন, তারা চাকরিযুদ্ধে নিজের সম্মান ও অবস্থান তৈরির জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার অশোভনীয় পোস্ট মুছে দিয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনর্থক পোস্ট করার ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার মোক্ষম সময় এখনই। ক্যারিয়ার বিল্ডার্সের জরিপে দেখা গেছে, ৭০ শতাংশ চাকরিদাতা ম্যানেজার ও এইচআর কর্মকর্তা প্রার্থীর সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে খেয়াল করেন। ৫৭ শতাংশ চাকরিপ্রার্থীর সোশ্যাল মিডিয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পোস্ট পাওয়া গেলে আবেদন বাতিল করা হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুপস্থিত থাকা

ক্যারিয়ার বিল্ডার্সের কর্মকর্তারা জরিপে বলেছে, যেসব প্রার্থী অনলাইনে নিয়মিত নন সেসব প্রার্থীর আবেদন বাতিল করে দেয় তারা। কিন্তু কেন? ২৮ শতাংশ চাকরিদাতা বলেন, তারা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে প্রার্থীর সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন। জরিপে প্রতি ৫ জনের একজন উত্তরদাতা উল্লেখ করেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় চাকরিপ্রার্থীর উপস্থিতি আশা করেন তারা। তাই সোশ্যাল মিডিয়াকে বাদ দিয়ে চাকরির বাজারে টিকে থাকা সম্ভব নয়। চাকরির আবেদন করলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যদি আপনার উপস্থিতি না থাকে তাহলে চাকরিদাতারা আপনার সম্পর্কে প্রাথমিক কোন ধারণাই পাবেন না।

পেশাগত ও ব্যক্তিগত পরিচয় ভিন্ন হওয়া

সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যক্তিগত পরিচয় এবং পেশাগত পরিচয় অভিন্ন হওয়া কাম্য। অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যক্তিগত পরিচয়ের সঙ্গে পেশাগত পরিচয় মেলে না। নিজের দক্ষতা বা কাজের পরিচয়ের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যক্তিগত পরিচয়ের মিল না থাকলে চাকরিদাতারা প্রার্থীকে চাকরি দিতে দ্বিধা বোধ করেন। সে কারণে ব্যক্তিগত পরিচয় ও পেশাগত পরিচয় এক না হলে প্রার্থীর আবেদন গৃহীত হয় না।

বারবার পোস্ট করা

ক্যারিয়ার বিল্ডার্স জরিপে ম্যানেজারদের কাছে প্রশ্ন করেছে, ম্যানেজাররা কেন সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল দেখে প্রার্থীর আবেদন বাতিল করেন? ৪০ শতাংশ ম্যানেজার বলেন অশোভনীয় ছবির কারণে, ৩৬ শতাংশ মাদক ব্যবহারের কারণে ও ৩১ শতাংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় অনর্থক মন্তব্যের কারণে প্রার্থীর আবেদন বাতিল করেন। ১২ শতাংশ ম্যানেজার বলেছেন, প্রার্থীর বারবার পোস্টের কারণে তারা আবেদন বাতিল করেন। কিন্তু বারবার পোস্ট করায় চাকরিদাতাদের আপত্তি কেন? কারণ এর অর্থ আপনি দিনের অধিকাংশ সময় সোশ্যাল মিডিয়াকে দেন।

কোম্পানি সম্পর্কে আপত্তিকর পোস্ট

কোম্পানির এমন অনেক বিষয় থাকে যেগুলো কর্মকর্তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু আপনি যদি সেসব বিষয় সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাইকে জানিয়ে দেন, তাহলে কোম্পানির কর্তাব্যক্তিদের আমার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হবে। কোম্পানির কোনো কর্মকর্তা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা সহকর্মীদের কোনো বিষয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা করলে কোম্পানির জন্য সেটি শোভনীয় হয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ কর্মকর্তাকে কোম্পানি সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কারণে বরখাস্ত করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, নিউইয়র্ক ও নর্থ ডেকোটাসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যে কর্মকর্তাদের কোম্পানি থেকে বরখাস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য আইন পাস করা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে কোনো ফেডারেল আইন এখন পর্যন্ত হয়নি। ফেডারেল আইন না থাকার কারণে প্রতিবন্ধীত্ব, লিঙ্গ ও লিঙ্গ পরিচয় এবং ধর্মকে কেন্দ্র করে অনেক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে থাকে কোম্পানি।