এখনো স্বপ্ন দেখেন আশরাফুল

স্বপ্নের মতো ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। জাগিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটে আশার আলো। তবে ক্যারিয়ারের নৌকা যখন মাঝ সমুদ্রে, তখনই বৈঠা হারিয়ে বসেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। নিষেধাজ্ঞার কবল থেকে মুক্ত হয়ে আবার ক্রিকেটে ফিরেছেন আশরাফুল। তবে প্রত্যাবর্তনটা সুখকর হয়নি। তবুও ক্রিকেটেই ধ্যানজ্ঞান আশরাফুলের। আরও দুই-তিন বছর খেলা চালিয়ে যেতে চান তিনি।

বাংলাদেশ ক্রিকেটকে বিশ্ব দরবারে নতুনভাবে পরিচিত করতে আবির্ভাব হয় ১৭ বছর বয়সী এক তরুণের। নাম তার মতিন। পরে অবশ্য আশরাফুল নামেই খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। জন্ম তারিখ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তাকে টেস্ট ক্রিকেটের কনিষ্ঠতম সেঞ্চুরিয়ান হওয়া থেকে আটকানো যায়নি। অমিত প্রতিভার অধিকারী আশরাফুল, ব্যাট হাতে নিজের দিনে বিশ্বের বাঘা বাঘা সব বোলারদের রাস্তায় নামিয়ে আনেন।

টাইগার ক্রিকেটকে সম্ভাবনার সাগরে ভাসিয়ে হঠাৎ ছন্দপতন আশরাফুলের। দুর্নীতির দায়ে সাজা হয় তার। যেখানে ৮ বছরের ক্রিকেট নিষেধাজ্ঞা ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে বিসিবির ডিসিপ্লিনারি প্যানেল আশরাফুলের নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে ৩ বছরে নিয়ে আসে। যেখানে ট্র্যাইব্যুনালের রায়ে আরও ২ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকার শর্ত দেওয়া হয়।

২০১৬ সালে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরেন আশরাফুল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা ওঠে ২০১৮ সালে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে শুরু করলেও পরে আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা হয়নি। এজন্য অবশ্য চেষ্টার কমতি রাখছেন না। এভাবে আর কতদিন চেষ্টা করবেন? সাক্ষাৎকারে আশরাফুল জানিয়েছেন বিস্তারিত। পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো।

নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে নিজেকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?

আসলে টি-টোয়েন্টি সংস্করণটাতে এখনো ভালোভাবে কামব্যাক করা হয়নি। গত বিপিএলটাও ভালো যায়নি। এবার বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপও ভালো হয়নি। ফেরার পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ভালো করেছিলাম। এক মৌসুমে পাঁচটি সেঞ্চুরি করেছি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কয়েকটি সেঞ্চুরি পেয়েছি। আসলে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটটা ভালো হচ্ছে, কিন্তু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যে রিদমটা চাচ্ছি, সেটা পাচ্ছি না।

একটি টুর্নামেন্ট বা একটি ম্যাচকে লক্ষ্য বানিয়ে জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা কতখানি?

আসলে এটা একটা চাপ হয়ে গেছে। জাতীয় দলটা তো আমার শেষ লক্ষ্য। তার আগে আমার এসব টুর্নামেন্টে ভালো খেলতে হবে। জাতীয় দলের হয়ে খেলা তো সবার ইচ্ছে। আমিও আবার খেলতে চাই। এর জন্য যা, যা করণীয় সেটা তো আপনাকে আগে করতে হবে, তারপর না জাতীয় দল। স্বপ্ন দেখি সেটা তো বলতে বাধা নেই। আমার মনে হয় না এটা অসম্ভব কিছু। সবকিছুই সম্ভব, যদি আপনি মন থেকে চান।

অনেকবার বলেছেন, এক ম্যাচের জন্য হলেও জাতীয় দলে ফিরতে চান। সেটিই কি বাড়তি চাপ তৈরি করছে?

হ্যাঁ, প্রভাব তো পড়ে। এটা একটা চাপ না? তবে চেষ্টা করি নিজের মতো করে খেলার। আসলে হচ্ছে না সেটা। ভাগ্যটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মনে হচ্ছে ভাগ্য ঠিকঠাক সঙ্গ দিচ্ছে না।

সম্প্রতি ফিটনেস নিয়ে অনেক কাজ করেছেন। তার ফলও পেয়েছেন। তবে স্কিলে কি কিছুটা ঘাটতি থেকে গেছে?

ফিটনেস তো লাগবেই। আমার মনে হয়, আমার স্কিলও ঠিক আছে। আসলে যে ব্যাটিং পজিশনে খেললে আমার জন্য সুবিধা হবে, সে জায়গায় খেলার সুযোগ পাচ্ছি না। পাওয়ার-প্লে তে ব্যাট করতে পারলে আমার জন্য ভালো হতো। সেটা হচ্ছে না। এক ম্যাচে তো বোকার মতো রান আউট হলাম। তখন আমার পার্টনার যে ছিল, সে যদি না বলতো, তাহলে রান আউট হতে হতো না। এখানে ভাগ্যটা গুরুত্বপূর্ণ। আমার স্কিল কোনও সমস্যা না। স্কিল ঠিক আছে, তবে আরও অপেক্ষা করতে হবে। যেহেতু কষ্ট করে যাচ্ছি, সামনে যদি আবার খেলার সুযোগ হয় বা অন্যকোনো টুর্নামেন্ট হয়, সেখানে নিজেকে প্রমাণ করতে চেষ্টা করবো।

সমর্থকদের বড় একটা অংশ আপনাকে সমর্থন করে। আবার জাতীয় দলে দেখতে চায়। সেটি বাড়তি চাপ নাকি প্রেরণা হিসেবে কাজ করে?

না, না, অবশ্যই প্রেরণা। খারাপ লাগে তাদের জন্য আমি কিছু দিতে পারছি না। চট্টগ্রামের বিপক্ষে ম্যাচে ২০ রান করেছিলাম। ওই দিন যদি ইনিংসটা বড় করতে পারতাম, তাহলে খুব ভালো হতো। এই সুযোগটা আমি মিস করে ফেলছি। তবে অনেকেই বলে যে ব্যাটিং করতে নেমে মারে না কেন? আপনি ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকে মারতে গিয়ে আউট হলে সেটি আরেকটা সমস্যা।

বাস্তবতা আমলে নিলে আপনার জাতীয় দলের ফেরা নিয়ে আপনি নিজে কতটা আশাবাদী?

আসলে এটা একটা চাপ হয়ে গেছে। জাতীয় দলটা তো আমার শেষ লক্ষ্য। তার আগে আমার এসব টুর্নামেন্টে ভালো খেলতে হবে। জাতীয় দলের হয়ে খেলা তো সবার ইচ্ছে। আমিও আবার খেলতে চাই। এর জন্য যা, যা করনীয় সেটা তো আপনাকে আগে করতে হবে, তারপর না জাতীয় দল। স্বপ্ন দেখি সেটা তো বলতে হবে। আমার মনে হয় না এটা অসম্ভব কিছু। সবকিছুই সম্ভব, যদি আপনি মন থেকে চান।

খেলা থেকে অবসর বিষয়ে কিছু ভেবেছেন?

যেহেতু আমি ফিট আছি। যতদিন পারব চেষ্টা করে যাবো। আমার যে ফিটনেস আছে, তাতে আরও দুই-তিন বছর চেষ্টা করলে সহজেই ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যেতে পারবো।

অবসরের পর কোন পেশায় নিজেকে যুক্ত করতে চান?

আসলে ওভাবে এখনো চিন্তা করিনি। কারণ, আমি তো আরো অন্তত দুই-তিন বছর খেলতে চাই। তারপর অন্যকিছু চিন্তা করবো।

আগামীতে যদি জাতীয় দলের নির্বাচকের দায়িত্ব পান, তাহলে সেই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন? দায়িত্ব নিলে ঠিক কোন জায়গায় পরিবর্তন আনতে চান?

না, আমি আসলে ওসব নিয়ে এখনো ভাবিনি। পরে কি করব ওইসব নিয়ে চিন্তা করিনি। এখন আমার চিন্তা ফিটনেস, স্কিল, খেলা এসব নিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *