ওয়ার্ম-আপ সেশন: মেসির ডেরায় নেইমারহীন পিএসজি

লিওনেল মেসি কিছুটা আফসোস করতেই পারেন, আবার চাইলে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাসও ফেলতে পারেন। ‘বন্ধু তুমি, শত্রু তুমি’ নেইমার যে নেই! সেই নেইমারকে ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলর প্রথম লড়াইয়ে আজ কাতালান দলটির আতিথ্য নিচ্ছে কোচ মরিসিও পচেত্তিনোর পিএসজি।

দুই দল শেষবার যখন মুখোমুখি হয়েছিল, নেইমার তখন মেসির শত্রু নন, বন্ধুই ছিলেন। ব্রাজিলীয় তারকা অবশ্য সে রাতে ‘মেসির বন্ধু’ হয়েই ছিলেন না, বার্সাকে পরের পর্বে তোলার প্রধান কুশীলবও বনে গিয়েছিলেন। পিএসজির বিপক্ষে লড়াইয়ের প্রথম কিস্তিতে ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও দলের ৬-১ ব্যবধানের জয়, অবিস্মরণীয় প্রত্যাবর্তন ‘লা রেমুনটাডা’য় মূখ্য ভূমিকায় ছিলেন শেষ সাত মিনিটে। দুই গোল করে, শেষ গোলটা গড়ে দিয়ে।

সেই নেইমার আজ রাতে পিএসজির হয়ে নামলে নিশ্চয়ই বাড়তি মনোবল পেত পিএসজি! কিন্তু বাম পায়ের অ্যাডাক্টরের চোট ছিটকে দিয়েছে তাকে। সে ম্যাচে বার্সার জয়ের আরেক কুশীলব অবশ্য আছেন পিএসজি-শিবিরে। ৮ মার্চ ২০১৭, তারিখের সে ম্যাচে প্রথম গোলটা গড়ে দেয়া রাফিনিয়া আলকান্তারা চলতি মৌসুমের শুরুতে বার্সা ছেড়ে গিয়েছিলেন পিএসজিতে। নেইমার, আনহেল ডি মারিয়ার অনুপস্থিতিতে, চোট কাটিয়ে থাকলে নামতে পারেন প্রথম একাদশেও।

শেষবারের দেখায় সে হারের ক্ষতে প্রলেপ দিতে আজ মুখিয়েই থাকবে ফরাসি দলটি, বার্সার ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে অকপটেই স্বীকার করে নিয়েছেন ব্যাপারটা।

সেসব একপাশে রাখলে অবশ্য বার্সা-পিএসজির লড়াইতে ফরাসিরা কিছুটা পিছিয়ে থাকতে পারে সাম্প্রতিক ফর্মে। সর্বশেষ ম্যাচে আলাভেসকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে এসেছে এ ম্যাচে। জাভির রেকর্ড ভাঙা ম্যাচে বক্সের বাইরে থেকে যে দুটো গোল করেছেন মেসি, শুধুমাত্র সেগুলোও পিএসজির বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। অন্যদিকে নিসের বিপক্ষে ফরাসি দলটির জয়ের ব্যবধান ২-১, ম্যাচটায় প্রয়োজনীয় আধিপত্যও দেখাতে ব্যর্থ হন পচেত্তিনোর শিষ্যরা।

বার্সেলোনার পক্ষে কথা বলছে ইতিহাসও। সর্বশেষ যেবার দলটি শেষ ষোলর বাঁধা পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছিল সে নজিরটা ১৪ বছরের পুরনো। সেবার লিভারপুলের বিপক্ষে অ্যাওয়ে গোল সুবিধায় শেষ আটে উঠে গিয়েছিল কাতালানদের বিদায় করে। এরপর থেকে বার্সেলোনা দ্বিতীয় রাউন্ডের বাঁধা পেরোতে ব্যর্থ হয়নি কখনোই, এমনকি ২০১৬-১৭ মৌসুমে পিএসজির বিপক্ষে লড়াইয়ের প্রথম কিস্তিতে চার গোল হজম করেও নয়।

চলতি মৌসুমে অবশ্য অনেক পুরনো ‘গৌরবের’ রেকর্ডই ভেঙেছে বার্সার। পিএসজির বিপক্ষে তাই ক্ষয়রোগের ভয়টা থাকছেই। দলের আরও ভয়ের কারণ ভঙ্গুর রক্ষণ। প্রতিপক্ষ দলে যখন কিলিয়ান এমবাপের মতো গতিদানব থাকেন, চিন্তাটা তখন না বেড়েই যায় না।

দুই দলের শেষ ম্যাচই ছিল বার্সার অবিস্মরনীয় প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ। পিএসজির বার্সা সফরে তাই ঘুরেফিরেই আসছে সে প্রসঙ্গ। পিএসজি কোচ পচেত্তিনোও পড়লেন এ প্রশ্নের মুখে। জবাবে নতুন শুরুর কথাই বললেন পচেত্তিনো।

আমি শান্ত আছি, ভিন্ন এই পিএসজি দলটাও তেমনই আছে। যা আগে হয়ে গেছে, তা কখনোই মুছে ফেলা যাবে না। তবে আমরা আরেকটা ভবিষ্যৎ গড়তে চাই। অতীতে যা হয়েছে তার চেয়ে ভালোই করতে চাই আমরা। এটা একটা বিশেষ ম্যাচ। যখন আপনি পিএসজির সঙ্গে যুক্ত হন, এ দিনটার গুরুত্ব ও উত্তেজনাটা তখনই অনুভব করতে পারেন।
-মরিসিও পচেত্তিনো, পিএসজি কোচ

কোচ রোনাল্ড কোম্যানকে তেমন কিছুর প্রশ্ন করা হলেও বার্সা কোচ এড়িয়ে গেলেন সুনিপুণভাবেই। বরং তার বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল নিজের দল। বার্সেলোনার দায়িত্ব নিয়ে এর চেয়ে বড় ম্যাচ আর পাননি কোম্যান। সাবেক ডাচ ডিফেন্ডারের কাছে ম্যাচটা তাই বড় পরীক্ষাও।

দলটা ধীরে ধীরে ভালো খেলছে। শারীরিকভাবেও খেলোয়াড়রা আছেন শীর্ষ পর্যায়ে, এখনো আমাদের বেশ কিছু দুর্দান্ত খেলোয়াড় আছে। তার মানে দাঁড়াচ্ছে আমরা সবাইকে হারাতে পারি। এটাই আমরা দেখাতে চাই যে ইউরোপের সব দলকেই হারানোর ক্ষমতা আছে আমাদের।
রোনাল্ড কোম্যান, বার্সেলোনা কোচ

সাম্প্রতিক ফর্ম

বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের শেষ ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই জিতেছে। হেরেছে সর্বশেষটিতে। আর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ছয় ম্যাচের একটিতে হার দলটির। লিগে সর্বশেষ ১২ ম্যাচ ধরে অপরাজিত আছে দলটি।
অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পিএসজির শেষ ছয় ম্যাচের দুটিতে হারলেও শেষ তিন ম্যাচ টানা জিতেছেন এমবাপেরা।

মুখোমুখি লড়াইয়ে

নিজেদের ইতিহাসে ১২তম লড়াইয়ে নামছে বার্সা ও পিএসজি। যার আটটিই হয়েছে ২০১২-১৩ মৌসুমের পর। এ সময়ে এর চেয়ে বেশি মুখোমুখি হওয়ার ইতিহাস আছে কেবল রিয়াল মাদ্রিদ ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের (১০ বার)।

পিএসজির বিপক্ষে কাতালানরা ৫বার শেষ হাসি হেসেছে, আর পিএসজি তিন ম্যাচে হারিয়েছে বার্সাকে। বাকি চার ম্যাচ শেষ হয়েছে সমতায়।

দলের খবর

বার্সেলোনা দলে যে আজকের ম্যাচে আনসু ফাতি, সার্জি রবার্তো ও ফেলিপে কৌতিনিয়ো থাকছেন না, তা জানা ছিল আগ থেকেই। তবে যে দিকে চোখ ছিল, সেই রক্ষণভাগে রোনাল্ড আরাউহো ফেরেননি চোট থেকে। জেরার্ড পিকে অনুশীলনে ফিরলেও এ ম্যাচে মাঠে নামার সম্ভাবনা খুবই কম। সার্জিনিও ডেস্টও ফিরেছেন চোট কাটিয়ে, ফিরতে পারেন প্রথম একাদশেও।

অন্যদিকে নেইমারের চোট ছাড়াও পিএসজি দলে অন্যতম দুশ্চিন্তা আনহেল ডি মারিয়ার চোট। মার্শেইয়ের বিপক্ষে চোট পাওয়া মার্কো ভেরাত্তিকে নিয়েও আছে শঙ্কা। পেশির সমস্যার কারণে রাফিনিয়ার খেলা নিয়েও আছে কিছুটা ধোঁয়াশা। এদিকে রক্ষণভাগে হুয়ান বের্নাত, তিমোথি পেম্বেলেও ভুগছেন ইনজুরিতে।

সম্ভাব্য একাদশ

বার্সেলোনা: মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেন, সার্জিনিও ডেস্ট, অস্কার মিনগেসা, ক্লেমেন্ত লংলে; সার্জিও বুসকেটস, ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, পেদ্রি গঞ্জালেস; লিওনেল মেসি, অ্যান্টোয়ান গ্রিজমান, উসমান দেম্বেলে।
পিএসজি: কেইলর নাভাস, মারকিনিয়োস, প্রেসনেল কিমপেম্বে, লেইভিন কুরজাওয়া, আলেসান্দ্রো ফ্লোরেঞ্জি; ইদ্রিসা গেই, লেয়ান্দ্রো পারেদেস; মইস কিন, জুলিয়ান ড্র্যাক্সলার, কিলিয়ান এমবাপে; মাউরো ইকার্দি।