করোনার পরে বদলে যাওয়া জীবন

মহমারী করোনাভাইরাস আমূল বদলে দিয়েছে পৃথিবীবাসীর জীবন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। এরপর দ্রুত ভাইরাসটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এই মহামারী সাধারণ মানুষের জীবনের গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়েছে। বেশ কয়েকটি নতুন শব্দ সম্পর্কেও করোনা মহামারী সাধারণ মানুষকে পরিচিত করেছে।

মহামারীর আগে কোয়ারেন্টাইন বা সেলফ কোয়ারেন্টাইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কোনো ধারণা ছিলো না। এখন এগুলোর সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে সবাই। করোনা মহামারীর কারণে আমাদের জীবনে চোখে পড়ার মতো অনেক পরিবর্তন এসেছে।

চলাফেরায় পরিবর্তন

করোনা মহামারীর ক্ষেত্রে চলাফেরায় বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। প্রচারমাধ্যমে ব্যাপকভাবে সামাজিক দূরত্বের কথা প্রচার করার ফলে অনেকেই চলাফেরার ক্ষেত্রে সব সময় সতর্কতা অবলম্বন করে আসছেন। মানুষেরা এখন আরও বেশি সতর্ক হয়েছেন। চলাফেরায় মানুষের পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো।

মাস্ক পরে বাইরে যাওয়া

করোনা মহামারীর কারণে বাইরে বের হওয়ার সময় সাধারণ মানুষ মাস্ক পরছেন। সচেতনতার পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যম মাস্ক পরার বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। সেসব প্রচারণার কারণে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় মাস্ক পরে বের হচ্ছেন। ঘর থেকে মাস্ক পরে বের হওয়ার ব্যাপারে রয়েছে বাড়তি নজরদারি। এমনকি মাস্ক না পরলে সেবা নেই এমন ঘোষণাও এসেছে।

অনলাইনে পড়াশুনা

মহামারীর কারণে দীর্ঘদিন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্ট দিনের জন্য বন্ধ রয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলছে অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা। শিক্ষার্থীদেরকে অনলাইনেই পড়াশুনা করতে হচ্ছে। পড়াশুনা অনলাইননির্ভর হয়ে যাওয়ার কারণে ক্যাম্পাস থেকে দূরে আছে শিক্ষার্থীরা।

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন

ঘরে অবস্থান করার কারণে দুপুরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে কর্মস্থলে থাকার কারণে অনেক মানুষ দুপুরে পরিবারের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন না। মহামারীকালীন ঘরে থাকায় দুপুরের খাবার পরিবারের সঙ্গে খাওয়ার সুযোগ পেয়েছে অনেকে। এর মধ্য দিয়ে অনেক মানুষের খাদ্যাভ্যাসে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। অনেকে মহামারীতে পেয়েছেন ডায়েটিংয়ের সুযোগ।

অফিস

করোনা মহামারীর কারণে বিশ্বের সব দেশে লকডাউন আরোপ করা হয়। লকডাউনের কারণে কর্পোরেট অফিসগুলোর কর্মকর্তারা বাসায় বসে অফিসে কাজ করেছেন। লকডাউন প্রত্যাহারের পর অফিসে সচেতনতা অবলম্বন করে কাজ করছেন কর্মকর্তারা।

বেড়ানো

ভ্রমণবিলাসীদের জন্য দুঃসহ অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে করোনা মহামারী। মহামারীর কারণে অনেক দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকায় ভ্রমণপ্রেমীরা ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হন। সচেতনতা অবলম্বনের পাশাপাশি কিছু অসতর্ক মানুষ বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেছেন। অনেকে মাস্ক না পরেই ঘর থেকে বের হয়েছেন।

মানসিক অসুস্থতা

দীর্ঘদিন ঘরে থাকার কারণে অনেকে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অনেকের মেজাজ খিটখিটে হয়ে উঠছে। করোনা মহামারীতে একটানা অনেক দিন ঘরে থাকার কারণে অনেকে জটিল মানসিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকে চাকরি বা উপার্জনের ব্যবস্থা হারিয়েছেন। তারা সেই দুঃসময় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন।

শিশুর ওপর প্রভাব

করোনা মহামারীর প্রভাব শিশুর ওপর ভালো প্রভাব ফেলছে না। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে শিশুদের পড়াশুনা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া অনেক শিশুর মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো শিশুর ক্ষেত্রে মানসিক রোগও দেখা দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *