প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাচ্ছেন না তো!

ক্ষুধা পেলেই খেয়ে নিচ্ছেন? প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেয়ে ফেলছেন কি না সেদিকে নজর রাখছেন তো? যদি নানা কসরত করার পরেও আপনার ‍ওজন দিনদিন বাড়তে থাকে তবে বুঝে নেবেন খাওয়াদাওয়ায় কোনো সমস্যা হচ্ছে। আমরা অনেকে অজান্তেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেয়ে ফেলি। তবে বেশি খেলে শরীর নানাভাবে তা প্রকাশ করে থাকে। সেদিকে একটু লক্ষ করলেই বুঝতে পারবেন। যদি বুঝতে পারেন যে আপনার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাওয়া হচ্ছে তবে খাবারে নিয়ন্ত্রণ আনা সহজ হবে।

কোমরে বাড়তি চাপ

খেয়ে ওঠার পরপরই কি আপনার কোমরের দিকটায় বাড়তি চাপ পড়ে? মনে হয়, কোমরের বেল্টটা আরেকটু ঢিলে করে দিতে পারলে আরাম হবে? তাহলে প্রতিবেলার খাবারের সময় সতর্ক হোন। প্রতিবেলায় যতখানি খাবার খান, তার থেকে কিছুটা কমিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে করে খাবারে নিয়ন্ত্রণ আনা সহজ হবে।

থামার সংকেত

অনেক সময় এমন হয়, শুরুতে খাবার সুস্বাদু মনে হলেও খেতে খেতে একটা সময় তা আর সুস্বাদু লাগে না। এর মানে হলো আপনার মস্তিষ্ক আপনাকে থামার সংকেত দিচ্ছে। খাবারের স্বাদ শুরুতে যা ছিল, এখনও তাই আছে। আপনার কাছে আর ভালোলাগছে না এর মানে হলো, আপনার তখন খাবারের দরকার নেই। আপনার শরীর সব সময় আপনাকে তার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জানান দিতে থাকবে। সেই সংকেত ধরতে পারলেই আপনি অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে চলতে পারবেন।

জোর করে খাওয়া

খাবার নষ্ট করা কোনো কাজের কথা নয়। অনেক সময় বেশি খাবার প্লেটে তুলে ফেলে পরে জোর করে খেতে হয়। যতটুকু খাবার খাওয়ার পরে আর খেতে ইচ্ছে করে না, ততটুকু খাবার নিন প্লেটে। বেশি নিয়ে জোর করে খাওয়া কিংবা নষ্ট করার থেকে যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু খাওয়ার অভ্যাস করুন।

বেশি খাওয়া হলে

একথা ঠিক যে প্রতিদিন একই মাপে খাওয়া সম্ভব নয়। কখনো কখনো বেশি খাওয়া হয়ে যেতে পারে। এমন হলে কী করবেন? খাবার তাড়াতাড়ি হজম করার জন্য ভারী কোনো ব্যায়াম করতে যাবেন না যেন! বরং খাওয়ার পরে কিছুটা সময় হেঁটে আসতে পারেন। খাওয়ার ঘণ্টাখানিক পরে অল্প অল্প করে হালকা গরম পানি পান করতে পারেন। পরের বেলার খাবার ক্ষুধা না পাওয়া পর্যন্ত খাবেন না। প্রতিবেলায় খাবারের পরিমাণ অল্প করে কমাবেন। তবে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাবার অবশ্যই খাবেন।

যেসব সমস্যা হতে পারে

আপনি যদি নিয়মিত অতিরিক্ত খাবার খেতে থাকেন তবে পেট বাড়তেই থাকবে। আর পেটের মেদ একবার বেড়ে গেলে তা কমানো মুশকিল। মেদ ছাড়াও বমি বমি ভাব, বদহজম, পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হতে পারে অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে। অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে দেখা দিতে পারে অতিরিক্ত ঘুমও। কাজের থেকে ঘুমের প্রতি বেশি আকর্ষণ অনুভব করবেন। তাই পছন্দের খাবারও কমিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন। তাজা ফল ও বেশি শাক-সবজি খান। ক্ষুধা পেলে তবেই খেতে বসুন। মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খাওয়ার অভ্যাস করুন।