কাউকে হাসাতে মিথ্যা বলা গুনাহ

মিথ্যার ধরন ও রকমফেরের শেষ নেই। অন্যের মনোযোগ আকর্ষণে মানুষ মিথ্যা বলে। কেউ আবার কথায় মাধুর্য আনতে বা লোক হাসাতে চলচাতুরির আশ্রয় নেয়। স্বাভাবিক হাসি-রসিকতায়ও কেউ কেউ মিথ্যার বেসাতি ও কাসুন্দি সাজিয়ে বসেন।

মিথ্যা বলে অন্যের মনোরঞ্জনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা দেখা যায়। তারা হয়তো নান ধরনের চিন্তা করে এমনটা করেন। এভাবে মিথ্যা বলাকে বৈধও মনে করতে পারেন। অথচ রসিকতা কিংবা হাসি-খুশিতেও মিথ্যা বলা হারাম। তাই হাসি-কৌতুকেও মিথ্যা নয়।

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন—

আমি রসিকতা করি ঠিক, তবে সত্য ব্যতীত কখনো মিথ্যা বলি না।
(সহিহ আল-জামে, হাদিস : ২৪৯৪; তাবরানি ফিল মুজামুল কাবির, খণ্ড: ১২, পৃষ্ঠা: ৩৯১)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, একবার সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ‘হে আল্লাহ রাসুল, আপনি তো আমাদের সঙ্গে রসিকতা করেন। তিনি বললেন, ‘আমি সত্য ছাড়া ভিন্ন কিছু বলি না। ’ (তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯৯০)

আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা (রহ.) একটি হাদিস বর্ণনা করেন। তাতে রাসুল (সা.)-এর রসিকতা করে কাউকে ভয় দেখাতে নিষেধ করেছেন। আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা সাহাবিদের থেকে বর্ণনা করেন—

তারা রাসুল (সা.) সঙ্গে কোনো সফরে ছিলেন। তখন তাদের একজন ঘুমিয়ে পড়লে অন্য কেউ তার তীরটি নিয়ে নেয়। পরে লোকটি ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে ভয় পেয়ে যায়। এ দৃশ্য দেখে সবাই হেসে ওঠেন। তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘তোমরা হাসলে কেন?’ তারা বলল, এমনিতেই। তবে আমি তার তীরটি নিয়েছিলাম। আর এতেই সে ঘাবড়ে গেছে। রাসুল (সা.) তখন বললেন, ‘কোনো মুসলিমের জন্য অন্য মুসলিমকে ভয় দেখানো বৈধ নয়।’

(আবু দাউদ, হাদিস: ৫০০৪; আহমদ, হাদিস : ২২৫৫৫)

অন্য এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমারা ইচ্ছায় বা রসিকতা করে অন্য কারো আসবাবপত্র ধরবে না। কেউ কারো কিছু ধরে থাকলে, তার উচিত তা ফেরত দিয়ে দেওয়া। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০০৩, তিরমিজি, হাদিস : ২১৬০)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *