কেয়ামতের দিন বিশেষ মর্যাদা পাবেন যে ধনী

বিত্ত-বৈভব ও ধনশ্বৈর্য আল্লাহর অনুকম্পা। তাঁর নির্দেশিত পদ্ধতিতে ধন-সম্পদ অর্জন বড় ইবাদত। আবার আল্লাহর সন্তুষ্টি মোতাবেক খরচ করলে আখেরাতে নাজাতের কারণ হবে। এছাড়াও আর্থিক বহু ইবাদত রয়েছে, যেগুলোর বিনিময়ে জান্নাত লাভ হবে। হাদিসে এ ব্যাপারে বহু ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

বৈধভাবে উপার্জিত অর্থ থেকে যারা আল্লাহর পথে ব্যয় করবেন, তারা কেয়ামতের দিন আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান পাবেন। নিম্নে ওই ধরনের মর্যাদাবান ধনীদের অবস্থা তুলে ধরা হলো—

যারা মসজিদ তৈরি করে
যারা মসজিদ স্থাপন করে কিংবা মসজিদ নির্মাণে সহযোগিতা করে— কেয়ামতের দিন তারা বিশেষ মর্যাদায় অভিষিক্ত হবে। উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন—

যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনে মসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ ঘর তৈরি করেন।
(তিরমিজি, হাদিস : ৩১৮)

এতিমের প্রতিপালন
সাহাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি ও এতিমের পালনকারী জান্নাতে এমনিভাবে নিকটে থাকবো— এই বলে তিনি শাহাদাত ও মধ্যমা আঙুলি দিয়ে ইঙ্গিত করেন এবং দুটির মাঝে কিঞ্চিৎ ফাঁক রাখেন। (বুখারি, হাদিস : ৫৩০৪)

আহারের ব্যবস্থা করে
অনেক ধনী গরিব, দুঃখী ও এতিমের সহযোগিতা করে। তারা নিজের সম্পদ ব্যয় করে অনাহারীকে খাবার দেয়। আল্লাহ তাআলা তাদের সৌভাগ্যবান বলেছেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে—

দুর্ভিক্ষের দিনে খাদ্যদান, এতিম আত্মীয়কে, অথবা দারিদ্র্য-নিষ্পেষিত নিঃস্বকে, তদুপরি সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় যারা ঈমান এনেছে এবং পরস্পরকে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দিয়েছে আর পরস্পরকে দয়া অনুগ্রহের উপদেশ দিয়েছে, তারাই সৌভাগ্যবান।
(সুরা বালাদ, আয়াত : ১৪-১৮)

এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা সালামের ব্যাপক প্রচলন করো, মানুষকে খাবার খাওয়ায়, আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখো এবং রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন নামাজ পড়ো। আর শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করো।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩২৫১)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *