বসন্ত ও ভালোবাসার সাজ

বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে প্রকৃতিতে। প্রকৃতির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে নিজেকে রাঙিয়ে নিতে পছন্দ করেন ফ্যাশন সচেতন মানুষেরা। আগামীকাল পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস, বসন্তের রঙিন ফুলে ফুলে ভালোবাসাকে বরণ করার দিন। এমন দিনে মনের মতো না সাজলে কি চলে! বসন্ত মানেই হলুদ, ভালোবাসা দিবস মানে লাল রঙের পোশাক- এই ধারণা থেকে অনেকটাই বের হয়ে এসেছে ফ্যাশনপ্রেমীরা। এখন বসন্ত মানে রঙিন হয়ে ওঠা আর ভালোবাসা মানে আরও বেশি রঙিন। এমন দিনে কেমন সাজ হবে, জেনে নিন-

পোশাক কেমন হবে

বসন্তের প্রথম দিনে কিংবা ভালোবাসা দিবসে কী পরলে বেশি সুন্দর লাগবে শাড়ি না-কি কামিজ- এই দ্বিধায় ভোগেন অনেক তরুণী। অন্যরা শাড়ি পরছে বলে আপনিও পরবেন এমনটা না ভেবে আপনি কীসে স্বচ্ছন্দ তা ভাবুন। যদি শাড়ি পরে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তবে শাড়ি বেছে নিন। আর শাড়িতে অভ্যস্ত না হলে পরতে পারেন কামিজ বা গাউন। এমনকী সিঙেল কুর্তিতেও মন্দ লাগবে না। তবে পুরোটাই নির্ভর করছে আপনি কী পরতে চান, কোন পোশাকে আপনাকে বেশি ভালোলাগবে তার ওপরে। বেছে নিতে পারেন একরঙা কিংবা ফ্লোরাল প্রিন্টের পোশাক। অথবা আপনার পছন্দ অনুযায়ী কিছু। এমন নয় যে নির্দিষ্ট কোনো রঙের পোশাক পরতেই হবে। তাই রঙের ক্ষেত্রেও প্রাধান্য দিতে পারেন আপনার পছন্দকে।

মুখের সাজ

সুন্দর লাগবে ভেবে একগাদা মেকআপ করে বসবেন না যেন। বরং যত বেশি ন্যাচারাল লাগবে, ততই হয়ে উঠবেন অনন্যা। এমনিতেও এখন গরম পরতে শুরু করেছে। এই গরমে ভারী মেকআপ না করাই ভালো। মুখের সাজের জন্য প্রথমে ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার মেখে নিন। এরপর প্রাইমার লাগান। এতে মুখে মেকআপ ভালোভাবে বসবে। এবার ফাউন্ডেশন ভালোভাবে মেখে নিন। এরপর হালকা করে মুখে বোলান ফেস পাউডার। গালের দুইপাশে আরও হালকা করে বোলাতে পারেন ব্লাশন। চোখের সাজ খুব বেশি ভারী হওয়ার দরকার নেই। আইলাইনার টেনে নিতে পারেন। পরতে পারেন কাজলও। ঠোঁটে এমন রঙের লিপস্টিক পরুন, যে রংটি আপনার সঙ্গে মানায়। দীর্ঘ সময় লিপস্টিক রাখতে চাইলে ম্যাট লিপস্টিক বেছে নিন।

চুলের সাজ

ফাল্গুনের সাজে চুলে ফুল না থাকলে কি আর মানায়! রঙিন ফুলেরা উঠে আসুক চুলের খোঁপায়। তবে শুধু খোঁপা নয়, বেণিও গাঁথতে পারেন। যেভাবে চুল বাঁধলে আপনাকে দেখতে ভালোলাগে, আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সেভাবেই বাঁধুন। চুল ছেড়েও রাখতে পারেন তবে তাতে গরম বেশি লাগতে পারে। শাড়ির সঙ্গে খোঁপা দেখতে বেশি ভালোলাগবে। কামিজ কিংবা গাউনের সঙ্গে বেণি বেশি মানানসই। গাঁদা, গোলাপ, জারবেরা, বেলি- পছন্দের যেকোনো ফুল বেছে নিতে পারেন চুলের সাজে। ফুলের তৈরি মুকুটও পরতে পারেন মাথায়।

এক্সেসরিজ

পোশাকের সঙ্গে মানানসই সাজের জন্য প্রয়োজন পড়ে নানা এক্সেসরিজের। চুড়ি, ব্রেসলেট, নেকলেস, মালা, কানের দুল, জুতা, আংটি- এমন অনেককিছুই পড়ে এই তালিকায়। চেষ্টা করুন এসব এক্সেসরিজ পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে নেয়ার। হাতে একগোছা রেশমি চুড়ি আপনাকে আরও বেশি সুন্দর করে তুলতে পারে। গলায় যদি ভারী কোনো নেকলেস পরেন তবে কানে হালকা দুল পরুন। আবার গলায় কিছু না পরে কানে বড় দুল বা ঝুমকা পরতে পারেন। মেটাল, কাঠ, মাটি, পাথর- যেকোনো গয়নাই বেছে নিতে পারেন। শাড়ি পরলে চেষ্টা করুন সামন্য হিল জুতা পরার। কামিজের সঙ্গে ফ্ল্যাট স্যান্ডেল বেশি মানানসই।

ছেলেদের সাজ

সাজগোজের উপলক্ষ এলে মেয়েদের মতো এতটা গুরুত্ব পায় না ছেলেরা। তবে তারাও এখন পিছিয়ে নেই। বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে ফ্যাশন হাউজগুলো মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদের জন্যও আনে নানা ধাঁচের পোশাক। তবে উৎসবে বাঙালি পুরুষকে বেশি মানায় পাঞ্জাবিতে। পাঞ্জাবির সঙ্গে সুতির পাজামা যেমন পরা যায়, তেমন জিন্সও মানানসই। আর রঙের ক্ষেত্রে হলুদ, বাসন্তী, সবুজ, নীল, লাল- এসব রং বেশি মানানসই এমন দিনের জন্য। অনেক জুটি আবার ম্যাচিং করে পোশাক কিনে থাকেন। পাঞ্জাবির সঙ্গে চটি স্যান্ডেল বেশি মানানসই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *