স্কুল ছেড়ে যাওয়ার অনুভূতি হচ্ছে নাফীসের

২০০৫ সালে ওয়ানডে ফরম্যাট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক শাহরিয়ার নাফীসের। রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটকেও বিদায় বলে দিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। যদিও ১৫ বছরের পথচলার শেষ আট বছরই বাংলাদেশ দলের জার্সি গায়ে চাপাতে পারেননি তিনি। অবশেষে নতুন দায়িত্ব পেয়ে মাঠের পাঠ চুকিয়ে দিলেন নাফিস। বিদায় বেলায় বললেন, স্কুল ছেড়ে যাওয়ার অনুভূতি হচ্ছে।

শাহরিয়ার নাফিসকে এদেশের ক্রিকেট মনে রাখবে একাধিক কারণে। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ দলের প্রথম টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়েই ম্যাচ জেতান তিনি। যদিও এরপর আর দায়িত্ব পালনের সুযোগ পননি তিনি। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালদের অধ্যায় শুরুর লগ্নে ব্যাট হাতে বাংলাদেশ দলের আস্থার প্রতীক হয়ে জ্বলেছেন নাফীস। এক সময় সেঞ্চুরির রেকর্ডে সতীর্থদের ছাড়িয়ে সবার উপরে নিয়েছেন নিজেকে।

এছাড়াও ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট খেলতে নেমে শতক হাঁকান নাফীস। ১৪ বছর পরও টাইগারদের আর কোনও ব্যাটসম্যানের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেট সেঞ্চুরির স্বাদ নেই। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত একদিনের ক্রিকেটে এক বছরে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি ও একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে ১হাজার রান করা ব্যাটসম্যান তিনি। এই রেকর্ডটিও নাফীস গড়েছিলেন ২০০৬ সালে।

তবে ২০১৩ সালের পর আর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপাতে পারেননি নাফীস। ৮ বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে লড়াই চালিয়ে গেছেন, টাইগার শিবিরে হারানো জায়গা ফিরে পাওয়ার জন্য। শত চেষ্টার পরও ফেরা হয়নি নাফীসের। সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছেন নাফীস, তাকে বোর্ডের ক্রিকেট অপরাশেন্স বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজারের পদ দেওয়া হয়েছে। সেই চেয়ারে বসতেই মাঠের পাঠকে, নিজের ক্রিকেট সত্ত্বাকে বিদায় বলে দিলেন নাফীস।

শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টার সংলগ্ন ১ নং প্লাজায় ‘পিচ ফাউন্ডেশন’ এর একটি অনুষ্ঠানে তাকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এর মাধ্যমে সব ধরণের ক্রিকেট খেলা থেকে বিদায় নেন নাফীস।

বিদায় ঘোষোণার পর সাবেক ক্রিকেটার তকমা পাওয়া নাফীস বলেন, ‘একটু কঠিন। গতকাল থেকেই চিন্তাভাবনা করছিলাম। আমি খেলব না এটা ভেবে খুব কষ্ট লাগছে না, তবে অনুভূতিটা অদ্ভুত জানি। আমি একটা স্কুলে পড়লাম, স্কুল ছেড়ে দিচ্ছি- ওরকম অনুভূতি। খুবই অদ্ভুত।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি সবসময় সব সিদ্ধান্ত ভেবেচিন্তে নিয়েছি, পরিস্কার করে। আমি চিন্তা করেছি যখন একজন খেলোয়াড় হিসেবে আর অবদান রাখতে পারব না, তবে সবসময় বলেছি আমি ক্রিকেটের সাথেই থাকব। আমার কাছে মনে হয়েছে এটাই সঠিক সময়। কারণ খেলে যতটুকু অবদান রাখতে পারব তারচেয়ে বেশি এখন পারব। এজন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়নি।’

নাফীসের বিদায়ী অনুষ্ঠানে তাকে কোয়াবের পাশাপাশি সংবর্ধনা দিয়েছে বিসিবি। এই অনুষ্ঠানে বোর্ডের ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খোদ বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন। সেখানে নাফীস জানালেন, মাঠ থেকে বিদায় না নিতে পারলেও খুব বেশি আক্ষেপ নেই তার।

নাফীসের ভাষায়, ‘আমাদের চেয়েও বড় অনেক ক্রিকেটারের এই সৌভাগ্য হয়নি। বিসিবি ও কোয়াবকে ধন্যবাদ এরকম একটা আয়োজনের জন্য। যদি করোনা না থাকত আমরা খেলে বিদায় নিতে পারতাম। তারপরও আমাদের জন্য যতটুক করেছে আমরা কৃতজ্ঞ।’

তার ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের প্রাপ্তির কথা জানিয়ে নাফীস বললেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া বাংলাদেশ মানুষের ভালোবাসা। আমি যদি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আরেকটু বেশি খেলতাম হয়ত পরিসংখ্যান আরও ভালো হত। কিন্তু পরিসংখ্যান দিয়ে তৃপ্তি বিচার করি না। বাংলাদেশ মানুষ ও মিডিয়ার যে ভালোবাসা পেয়েছি এর চেয়ে বেশি ভালোবাসা পাওয়া একজন খেলোয়াড়ের জন্য সম্ভব না। আমার ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো অতৃপ্তি নেই।’