ফলো-অন এড়াতে লড়ছে বাংলাদেশ

সংক্ষিপ্ত স্কোর-
উইন্ডিজ: ৪০৯ (বোনার ৯০, জশুয়া ৯২, জোসেফ ৮২; রাহী ৯৬-৪, তাইজুল ১০৮-৪)
বাংলাদেশ: ১৮১/৬ (মুশফিক ৫৪, তামিম ৪৪, লিটন ২৩*; কর্নওয়েল ৪০/৩)

কোন পথে এগুচ্ছে ঢাকা টেস্ট? ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ ইনিংসের শুরুতেই তার আভাস পাওয়া গেছে। ক্রিকেটের পাড় সমর্থকরা আভাস আরো আগেই পেয়েছেন। যখন স্বাগতিক বোলারদের শাসন করে প্রথম ইনিংসে চারশ রানের উপরে স্কোর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে শঙ্কাকে ভুল প্রমাণের চেষ্টা চালিয়েও নিজেদের ভুলের মাশুল দিয়েছেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। দুই সেট ব্যাটসম্যানকে তুলে নিয়ে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনটাও নিজেদের দখলে রাখলো ক্যারিবীয়রা।

প্রথম ইনিংসে উইন্ডিজকে ৪০৯ রানে গুঁটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নামে টাইগাররা। তবে দ্বিতীয় দিনে নিজেদের ইনিংসের শুরুটা মোটেও সুখকর হয়নি। ১০৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দিনের খেলা শেষ করে স্বাগতিকরা। এই ৪ উইকেট নিতে যতটা না কৃতিত্ব ছিল সফরকারী বোলারদের, তার থেকে ঢের বেশি অবদান বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের। উইকেটগুলো বিলিয়ে আসার দায় স্বীকার কিরে নিয়েছেন তামিম ইকবাল।

তৃতীয় দিনে বাংলাদেশ ইনিংসের আশার আলো হয়ে জ্বলছিলেন দুই ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুন। ধৈর্যের চরম পরীক্ষা দিয়ে শনিবার সকালে ব্যাট করতে নামেন এই দুজন। যেখানে ৬১ বলে ৬ রান করা মিঠুনের সঙ্গে ৬১ বলে ২৭ রান নিয়ে লড়াই শুরু করেন মুশফিক।

তৃতীয় দিনের শুরুটাও ভালো করেছিলেন তারা। কিন্তু দিনের ১০ নম্বর ওভারের মাথায় খেই হারিয়ে ফেলেন মিঠুন। তার ধৈর্যের ব্যত্যয় ঘটে এদিন ২৫ বল খেলতেই। ১৫ রানে আউট হওয়া সতীর্থ মিঠুনকে হারিয়ে উইকেটে হাঁসফাঁস করতে থাকেন মুশফিক। এর মধ্যে নিজের ফিফটি তুলে নেন বটে, তবে রানের ক্ষুধা পেয়ে বসে তার। এতেই ভুল করে বসেন মুশফিক, যেটিকে আত্মহুতি বললেও কম বলা হবে।

কর্নওয়েলের ফুলার লেংথের বল রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে কাভারে মেয়ার্সের হাতে ধরা পড়ে ফেরেন তিনি। এরপর মাথা চাড়া দেয় ফলো-অনের শঙ্কা। দলীয় স্কোর ২১০ পার না করতে পারলে যে বড় লজ্জায় পড়তে হবে স্বাগতিকদের। সেই লজ্জা থেকে পরিত্রাণ পেতে উইকেটে লড়ছেন লিটন দাস। তার সঙ্গী চট্টগ্রাম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান মেহেদী হাসান মিরাজ। লিটনের অপরাজিত ২৩ ও মিরাজের ১১ রানের সুবাদে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে উইন্ডিজ থেকে পিছিয়ে এখনো ২২৮ রানে। ফলো অন এড়াতে বাংলাদেশের চাই আরও ২৯ রান।