রিজওয়ানের সেঞ্চুরিতে রোমাঞ্চকর জয় পাকিস্তানের

ফাহিম আশরাফের করা শেষ বলটি ছক্কায় পরিণত করতে পারলে ম্যাচের নায়ক বনে যেতেন বিয়ন ফোরটান। শেষপর্যন্ত করতে পারেননি তিনি। ২ রান নিয়েছিলেন বটে, তবে সেটি জয়ের জন্য যথেষ্ঠ ছিল না। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩ রানে হারিয়ে ৩ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুর ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত শতক হাঁকিয়েছেন পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ান।

২০০৭ সালের পর আর পাকিস্তান সফর করেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০০৯ সালের লাহোর হামলার পর এফটিপিতে পাকিস্তানের মাটিতে যে সিরিজগুলো হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলেছে প্রোটিয়ারা। তবে এবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ডের। ফল স্বরূপ প্রায় ১৪ বছর পর পাকিস্তানে খেলতে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে মাঠের লড়াইটা ঠিকঠাক জমাতে পারছে না সফরকারীরা।

২ ম্যাচ টেস্ট সিরিজে শোচনীয় পরাজয় ডি ককের দলের। প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের মাটিতে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার দিনেও ফায়দা করতে পারেনি প্রোটিয়ারা। ৩ ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জয়ের খুব কাছে গিয়েছিল বটে, তবে ভাগ্য সুপ্রসন্ন না হওয়ায় ৩ রানে ম্যাচ হেরে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে গেছে হেনরিক ক্লাসেনের দল।

লাহোরে টস হেরে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। দলের হয়ে ইনিংস শুরু করতে আসেন অধিনায়ক বাবর আজম ও রিজওয়ান। তবে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই বাবর রান আউট হন। ফেরেন শূন্য হাতে। শুরুর ৬ ওভারের মধ্যে ২১ রানে থাকা হয়দার আলীকেও হারিয়ে বসে স্বাগতিকররা। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন রিজওয়ান। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শেষপর্যন্ত ৬৪ বলে ১০৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ২০ ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৯ রান।

পাকিস্তানের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সেঞ্চুরি করার নজির গড়েন রিজওয়ান। আগেরজন ছিলেন আহমেদ শেহজাদ। একই সঙ্গে বিশ্বের দ্বিতীয় উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে তিন ফরম্যাটেই শতক হাঁকানোর নজির গড়েন রিজওয়ান।

১৭০ রানে ব্যাট করা দক্ষিণ আফ্রিকা ২০ ওভার শেষেব স্কোর বোর্ডে তুলতে পারে ১৬৬ রান। ইনিংসের শুরুটা ভালোই হয়েছিল তাদের। ৫৩ রানের উদ্বোধনী জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন দুই ওপেনার ইয়ানেমান মালান ও রিজা হেনড্রিকস। তবে মালান ৪৪ ও অর্ধশতক হাঁকানো হেনড্রিকস ৫৪ রান করে বিদায় নিলে বিপাকে পড়ে প্রোটিয়ারা। শেষ ওভারে তাদের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। তবে ফাহিম আশরাফের করা শেষ ওভার থেকে ১৫ রানের বেশি নিতে পারেনি সফরকারীরা। ফলে ৩ রানের রোমাঞ্চকর এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-

পাকিস্তান: ১৬৯/৬, ২০ ওভার (রিজওয়ান ১০৪*, হায়দার ২১, তালাত ১৫; ফেলুকওয়ায়ো ২/৩৩, শামসি ১/২০)
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৬৬/৬, ২০ ওভার (হেনড্রিকস ৫৪, মালান ৪৪, ফোরটান ১৭*; কাদির ২/২১, রউফ ২/৪৪)

ফল: পাকিস্তান ৩ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা: মোহাম্মদ রিজওয়ান (পাকিস্তান)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *