বার্সার সঙ্গে ইতিহাসে বায়ার্ন মিউনিখ

জার্মান ফুটবল ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ কেবল ঘরোয়া শিরোপা জেতে; বাভারিয়ানদের প্রতি নিন্দুকদের এমন খোঁচা দীর্ঘদিনের। ২০১২-১৩ মৌসুমের পর গত আসরের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে নিন্দুকদের মুখ বন্ধ করা গেছে। গতরাতে (বৃহস্পতিবার) ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে মেক্সিকান ক্লাব টাইগ্রেসকে ১-০ গোলে হারিয়ে পেপ গার্দিওয়ালার বার্সেলোনার পর ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে এক মৌসুমে সম্ভাব্য ছয়টি শিরোপার সবগুলোই জিতে নিল হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা।

ব্রাজিলিয়ান ক্লাব পালমেইরাসকে হারিয়ে আগেই ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালোর টিকিট নিশ্চিত করে রেখছিল জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে স্থগিত হওয়া ডিসেম্বরের ফাইনাল মাঠে গড়লো গতকাল (১১ ফেব্রুয়ারি)।

রাতে কাতারের এডুকেশন সিটি স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টাইগ্রেসের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্নক ফুটবল খেলতে থাকে বায়ার্ন। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ১৮ মিনিট, টাইগ্রেস জালে বল জড়ান জশুয়া কিমিচ। কিন্তু ভিএআর প্রযুক্তিতে দেখা যায় কিমিচ যখন গোলপোস্টমুখী শট নিচ্ছিলেন, রবার্ট লেভান্ডোফস্কি বল স্পর্শ না করলেও অতিক্রম করেছিলেন অফসাইড লাইন। ফলে উরুগুইয়ান রেফারি এস্তিবান অস্তজিচ গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন।

এরপর টাইগ্রেস দুর্গে একেক পর এক আক্রমণ চালিয়ে গেলেও গোলের দেখা পাননি বার্য়ান ফরোয়ার্ডরা। ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ফরাসি রাইটব্যাক বেনজামিন পাভার্ড। কিমিচের দেয়া লম্বা ক্রসে এগিয়ে এসে লেভেন্ডোফস্কির হেড টাইগ্রেসের আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক গুজম্যান ঠেকিয়ে দিলেও বল চলে যায় ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা পাভার্ডের কাছে। ফাঁকা পোস্টে বল পাঠাতে ভুল করেননি ফরাসি রাইটব্যাক।

তবে পাভার্ডের গোলে শুরুতে লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা দেখালেও এই দফায় ভিএআর বার্য়ানের পক্ষে যায়; ১-০ গোলের লিড পায় বাভারিয়ানরা। ম্যাচের বাকি সময়ে আরো বেশকিছু সুযোগ পায় বার্য়ান। কিন্তু গোলরক্ষক গুজম্যান অন্তত তিনটি দুর্দান্ত সেফ করেন। ফলে ১-০ গোলের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠে ছাড়ে বায়ার্ন।

ফাাইনালে পাওয়া জয়ের কল্যাণে নিজেদের দ্বিতীয় ক্লাব বিশ্বকাপ শিরোপা জিতলো বার্য়ান মিউনিখ। এর আগে ২০১৩ সালে প্রথমবার ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছিল বার্য়ান। নিজেদের দ্বিতীয় ক্লাব বিশ্বকাপ জেতার দিনে ফুটবল ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে এক মৌসুমের সম্ভাব্য ছয়টি শিরোপা বা হেক্সা জয় করলো বার্য়ান মিউনিখ।

বার্য়ানের আগে ২০০৯ সালে মাস্টারমাইন্ড কোচ পেপ গার্দিওয়ালার অধীনে প্রথম ক্লাব হিসেবে হেক্সা জিতেছিল বার্সেলোনা। ২০১৯-২০ মৌসুমে এসে চ্যাম্পিয়ন লিগ, উয়েফা সুপার কাপ, বুন্দেসলিগা, জার্মান কাপ, জার্মান সুপার কাপ এবং সবশেষ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জিতে দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে হেক্সা ক্লাবের এলিট লিস্টে নাম লেখালো হ্যান্সি ফ্লিকের বায়ার্ন মিউনিখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *