মায়ের সঙ্গে শেষ দেখাটাও হলো না ক্লপের

‘ফুটবলকে জীবন-মৃত্যুর মতো গুরুত্ব দিয়ে দেখেন অনেকে। আমি তাতে ঢের হতাশ হই। কারণ ফুটবল তো এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কিছু!’ কথাগুলো লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের পূর্বসূরী বিল শ্যাঙ্কলির। তবে বাস্তবে কি তাই? ফুটবল গুরুত্বপূর্ণ বটে, তবে পরিবার, জন্মদাত্রী মায়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কিছু কি আদৌ আছে? দুয়ের মাঝে পড়ে সে বাস্তবতাটাই যেন উপলব্ধি করলেন ক্লপ। মৃত মাকে শেষ বারের জন্যেও দেখতে যেতে পারেননি তিনি!

ক্লপের মা এলিজাবেথ না ফেরার দেশে চলে গেছেন গত ১৯ জানুয়ারি। শেষ বারের মতো দেখতে যেতে চাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু ক্লপের সে চাওয়াতে বাঁধ সেধেছে জার্মানির করোনাভাইরাসের বিধিনিষেধ। ফলে শেষবারের মতো মাকে আর দেখা হয়নি ক্লপের।

নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের আত্মপ্রকাশের পর থেকে জার্মানিতে চলছে কঠোর লকডাউন। বাইরে থেকে, বিশেষ করে যেখানে নতুন করোনার উদ্ভব হয়েছে সে ইংল্যান্ড থেকে জার্মানিতে যাতায়াত রীতিমতো নিষিদ্ধ। ক্লপের কর্মস্থান সেই ইংল্যান্ডেই।

বিকল্প ব্যবস্থা অবশ্য ছিল জার্মান এই কোচের সামনে। ইংল্যান্ড থেকে করোনা নেগেটিভের সনদ তো নিতে হবেই, থাকতে হবে দশ দিনের কোয়ারেন্টিনেও। তবে মায়ের লাশটা অতোদিন মর্গে রাখার ক্ষেত্রে সায় দেয়নি ক্লপের মন। শেষ দেখার ইচ্ছাটাকে মাটিচাপা দিয়ে মায়ের শেষকৃত্যের নির্দেশ দিয়ে দেন তিনি।

দুই বোন স্টেফানি আর ইসোল্ডের পর ১৯৬৭ সালে ক্লপ পরিবার আলো করে জন্ম নেন ‘ছোট ক্লপ’ ইয়ুর্গেন। বাবা-মায়ের ছোট সন্তান ছিলেন বলে ছিলেন বেশ আদুরেও। সেই ক্লপই কিনা শেষ বারের মতো দেখতে পারলেন মাকে!

মাতৃবিয়োগের শোক তো আছেই, মাকে শেষবার দেখতে না পাওয়ার কষ্টটাও বুকে চেপে রেখেছেন ক্লপ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমার মা আমার সবকিছু জুড়ে ছিলেন।’ তবে মাকে শেষবার দেখার সুযোগটা চলে গেছে, শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগটা নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্লপের প্রথম কাজটা তাই হবে মাকে শ্রদ্ধা জানানোই। লিভারপুল কোচের কথা, ‘যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পরই সুন্দরভাবে শ্রদ্ধা জানাবো আমি।’

মায়ের স্মৃতি রোমন্থন করে ক্লপ বললেন, ‘তিনি একজন সত্যিকারের মা ছিলেন, একজন অভিভাবক। একজন ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টান হিসেবে আমি জানি, আমার মা এখন ভালো জায়গাতেই পৌঁছে গেছেন।’