পিএসজির মেসিকে চাওয়া গুরুত্বপূর্ণ নয় কোম্যানের কাছে!

বার্সেলোনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তারকাও বটে। সেই মেসি চলতি মৌসুম শেষে দলে থাকবেন কিনা তা এখনো ধোঁয়াশায়। এদিকে পিএসজি ক্রমাগত সংবাদ মাধ্যমে মন্তব্য করে চাপ সৃষ্টি করেই যাচ্ছে বার্সেলোনা তারকার ওপর। তবে সেসব টলাতে পারছে না কোচ রোনাল্ড কোম্যানকে। জানালেন, সেসবের চেয়ে নিজেদের ম্যাচ-প্রস্তুতিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে তার কাছে।

লিওনেল মেসি গেল দলবদলেই বার্সেলোনা ছাড়তে চেয়েছিলেন। তবে তৎকালীন সভাপতি হোসে মারিয়া বার্তোমেওর অধীনে থাকা বোর্ড পথ আগলে দাঁড়ায় তার। এ মৌসুম শেষে সে বাঁধা নেই তার। নতুন চুক্তি সাক্ষর না করলে বিনামূল্যেই কাতালুনিয়া ছাড়তে পারবেন তিনি। তবে চুক্তি নবায়ন করবেন কিনা, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই সময় নিচ্ছেন মেসি। নতুন সভাপতি নির্বাচিত হলে তার সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি, জানাচ্ছে স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যম।

তবে এর মধ্যে গুঞ্জনও ভালোভাবেই ডালপালা মেলছে। তাতে রসদ যোগাচ্ছে পিএসজির খেলোয়াড় ও বোর্ড সদস্যরা। সর্বশেষ এতে যোগ দিয়েছে ফ্রান্স ফুটবল। সর্বশেষ সংখ্যায় মেসিকে রীতিমতো পিএসজির জার্সি পরিয়েই ছবি ছেপেছে ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে!

ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের কভারে পিএসজির জার্সি পরা লিওনেল মেসি/ছবি:সংগৃহীত
সেসবে শুরুতে বিরক্ত হলেও কোচ কোম্যান এখন যেন হাল ছেড়েই দিয়েছেন। সেভিয়ার বিপক্ষে আসন্ন কোপা দেল রে ম্যাচের আগে তিনি বললেন, ‘আমি জানি না তারা এমন কেন করছে। তবে এসব আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয় আর। আমাদের এখন সেভিয়া, আলাভেসের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। এরপর আগামী মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আমরা খেলব পিএসজির বিপক্ষে, তারপর এসবে নজর দেয়া যাবে।’

কোচ কোম্যানও অবশ্য দোষ থেকে মুক্ত নন। গেল গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বেশ ক’বার লিওঁ ফরোয়ার্ড মেম্ফিস ডিপেকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। বেশ ক’বার সংবাদ মাধ্যমে এ ইচ্ছার কথা প্রকাশও করেছিলেন তিনি।

সপ্তাহখানেক আগে যখন পিএসজির মন্তব্যে বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন তার প্রতিক্রিয়ায় সেই লিওঁর কোচ রুডি গার্সিয়া ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন কোম্যানের প্রতি। বলেছিলেন, ‘আমি পড়লাম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পিএসজি আর বার্সেলোনা ম্যাচের আগে এমন মন্তব্যে নাকি কোচ কোম্যান ক্ষুব্ধ! কিন্তু সে তো দলবদলের মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ার পরও মেম্ফিসকে নিয়ে কথা বলা বন্ধ করেনি! আমি একে বলবো, এক হাতে তালি বাজে না!’

তবে কোচ কোম্যান একে দেখলেন গার্সিয়ার ‘আলোচনায় থাকার’ কৌশল হিসেবে। বললেন, ‘যদি পিএসজি চায় তবে তারা মেসির সঙ্গে কথা বলতে পারে। কিন্তু এখন লিওঁ কোচ যখন এমন কিছু বলল, আমার মনে হয়েছে এটা আলোচনায় থাকার একটা কৌশলই। এর বেশি কিছু নয়।’

পিএসজি আর বার্সেলোনা আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলয় মুখোমুখি হবে। নিজেদের মাঠে প্রথম লেগটা খেলবেন মেসিরা।