মন ভাঙার পরের গল্প

অদৃশ্য, তবে ভাঙার বেদনা প্রবল। দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না, তবে সেই মনের ভেতর মানুষ পাহাড় সমান কষ্ট বয়ে বেড়ায়। মন ভাঙার কষ্ট কেবল ভুক্তভোগীই জানে। অন্যেরা হয়তো সমবেদনা জানাতে পারবে তবে সম পরিমান বেদনা কেউ অনুভব করতে পারবে না। ভালোবাসার সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরে নিজেকে ফাঁকা ফাঁকা মনে হতে পারে। মনে হতে পারে, পুরো পৃথিবীতে আপনি একা। কোথাও যেন কেউ নেই। এরকম অবস্থায় হুট করে কিছু করতে যাবেন না। নিজেকে কিছুটা সময় দিন। নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার অভ্যাস করুন। একটি বিষয় আপনাকে মানসিক প্রশান্তি দিতে পারে তা হলো ইতিবাচক চিন্তা। সবকিছুর ইতিবাচক দিক খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। এতে মনের অস্থিরতা অনেকটাই কমবে। বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান। তখন আর নিজেকে একা মনে হবে না। একবার মন ভাঙার মানেই যে আপনি আর উঠে দাঁড়াতে পারবেন না, তা কিন্তু নয়। বরং মনকে জোড়া লাগিয়ে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারবেন।

কিছু সময় বিরতি নিন

সম্পর্ক ভেঙে গেলে সবকিছু থেমে থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। সময়ের সাথে সাথে কমবে আপনার কষ্টের পরিমাণ। তবে একটি সম্পর্ক থেকে বেড়িয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নতুন কোনো সম্পর্কে জড়াবেন না। বিশেষজ্ঞরা এক্ষেত্রে অন্তত মাস ছয়েক বিরতি নেয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এই ছয় মাসে আপনি বুঝতে পারবেন, আগের সম্পর্কে ভুলগুলো কী ছিল। আপনার কোনো দুর্বলতা থাকলে তাও চিহ্নিত করতে পারবেন। এতে করে পরবর্তী সম্পর্ক আরও বেশি সুন্দর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর ভাঙা মন ঠিক করার জন্য ছয় মাস কম সময় নয়! ততদিনে আপনি পুরোনো সম্পর্ক থেকে অনেকটাই বের হয়ে আসতে পারবেন।

তাকে যেতে দিন

যে চলে গেছে, তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবেন না। কারণ সে সবকিছু বুঝেশুনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপনার মনের ভেতর যতই ঝড় বয়ে যাক, তাকে ডেকে এনে দেখানোর দরকার নেই। কারণ আপনার কষ্টকে গুরুত্ব দিলে কখনোই সে আপনাকে ছেড়ে যেতো না। যেহেতু সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে, এখন সে আর আপনার আপন কেউ নয়। তাই যখন-তখন তাকে কল কিংবা মেসেজ করবেন না। বরং সব রকম যোগাযোগের মাধ্যম থেকে তাকে ব্লক করে দিন। সে যদি আপনার চোখের সামনে সারাক্ষণ থাকে তবে ভুলে যাওয়া কঠিন হবে। তাই তাকে আর কোথাও রাখার প্রয়োজন নেই। পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে পড়ে থাকলে আপনি নতুন করে জীবন শুরু করতে পারবেন না।

সবাই খারাপ নয়

একবার কারও কাছ থেকে আঘাত পেলে মানুষ সবাইকে খারাপ ভাবতে শুরু করে। যেমন কোনো নারী যদি তার প্রেমিক কিংবা স্বামীর কাছ থেকে আঘাত পান তখন তিনি পুরো পুরুষজাতিকে খারাপ ভাবা শুরু করেন। এমনটা ঘটে পুরুষের ক্ষেত্রেও। কিন্তু প্রত্যেক মানুষই আলাদা। তাই কোনো একটি অপরাধে সবাইকে দায়ী করা মোটেই কাজের কথা নয়। আপনি যদি এমনটা ভাবতে শুরু করেন তবে নতুন করে কাউকে আর বিশ্বাস করতে পারবেন না। তবে সহজেই কাউকে বিশ্বাস করে বসবেন না। সময় নিন। নতুন করে সম্পর্কে জড়ানোর আগে সেই মানুষটিকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। এতে করে পরবর্তীতে ভুল করার আশঙ্কা কমবে অনেকটাই।

জীবন কঠিন নয়

জীবন আসলে তেমনই, যেমনটা আপনি দেখতে চান। তাই জীবনকে সহজ করে নিন। কোনোকিছুই জীবনের জন্য অপরিহার্য নয়। তাই সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য নিজেকে গুরুত্ব দিতে শিখুন। মনের মানুষ খুঁজে নেয়াটাই যেন জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য না হয়। বরং সবকিছু স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিন। সবার সঙ্গে সহজভাবে মিশুন। এতে করে নিজের সম্পর্কে কোনো হীনমন্যতা থাকলে তা ধীরে ধীরে কেটে যাবে। যারা আপনার জীবনের জন্য ক্ষতিকর, সেসব মানুষকে দূরে রাখুন বা এড়িয়ে চলুন। এতে করে প্রশান্তি মিলবে। কথায় কথায় সিরিয়াস হবেন না। তাতে কষ্ট আরও বাড়বে।

আপনি কী চান?

আপনার ইচ্ছা পূরণের জন্য সবার আগে জানা জরুরি আপনি কী চান? একজন মানুষের কোন গুণগুলো আপনাকে আকৃষ্ট করে তা ভেবে দেখুন। এতে করে পছন্দের মানুষকে চিনতে পারা সহজ হবে। পূর্বের সম্পর্কটি ভাঙার পেছনে আপনার কোনো ভুল নেই তো? থাকলে তা ভেবে বের করার চেষ্টা করুন। সেই ভুলকে অভিজ্ঞতা মনে করে নতুন করে ভুল না করার প্রতিজ্ঞা করুন। ভালোবাসাকে ভালোবেসে ভালো থাকুন।