আট গোলের রোমাঞ্চে মেসিরা শেষ চারে

শেষ কয়েক বছরে এগিয়ে থেকে ম্যাচ কিংবা দুই লেগের লড়াই হারটাকে যেন ডালভাতই বানিয়ে ফেলেছিল বার্সেলোনা। তার উল্টোটা করে দেখাতে পেরেছিল কমই। গ্রানাডার বিপক্ষে কোপা দেল রের কোয়ার্টার ফাইনালে সে ভুলতে বসা স্বাদটাই পেয়েছেন লিওনেল মেসিরা। ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময় পিছিয়ে থেকে আট গোলের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৫-৩ গোলের জয় পেয়েছে তারা। উঠে গেছে কোপা দেল রের সেমিফাইনালেও।

কোপা দেল রের চলতি আসর যেন রীতিমতো দৈত্যবধের মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ হেরে বিদায় নিয়েছিল কোরনেয়ার কাছে, রিয়াল মাদ্রিদের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়েছিল পুঁচকে আলকোয়ানো। সে তুলনায় লা লিগার দল গ্রানাডা বেশ শক্তিশালীই, আছে চলতি মৌসুমের শীর্ষ ছয়ের আশেপাশে। বৃহস্পতিবার রাতে তাই বিদায়ের শঙ্কাটা ভালোভাবেই চোখ রাঙানি দিচ্ছিল মেসিদের।

ম্যাচের শুরু থেকে অবশ্য সুযোগ সৃষ্টিতে এগিয়ে ছিল কোচ কোম্যানের শিষ্যরাই। চার মিনিটে রোনাল্ড আরাউহোর ভলি ঠেকিয়েছেন গ্রানাডা গোলরক্ষক অ্যারন এস্কান্দেই। মিনিট তিনেক পর মাঝমাঠ থেকে দারুণ ছন্দে গ্রানাডা বিপদসীমায় আসা মেসিও খালি হাতে ফিরেছেন অ্যারনের সামনে থেকে, ফিরতি সুযোগে ফ্রান্সেসকো ত্রিঙ্কাওকেও ফিরিয়েছেন তিনি। ২৩ মিনিটে মেসির দারুণ ফ্রি কিকটাও পরিণতি পায়নি গ্রানাডা গোলরক্ষকের কল্যাণেই।

এতোগুলো সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা কাতালানরা ৩৩ মিনিটে গোল হজম করে নিজেদের ভুলে। স্যামুয়েল উমতিতি বাইলাইনের কাছে বল হারান। সেটা ধরে ছয় গজ বক্সে বল বাড়ান আলবার্তো সরো, সহজ ট্যাপ ইনে গোল পান গোলমুখে আগুয়ান স্বাগতিক মিডফিল্ডার কেনেডি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বার্সাকে ঘোর বিপদে ফেলেন রবার্তো সলদাদো, প্রতি আক্রমণে বার্সা গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেনকে একা পেয়ে গোল করেন তিনি।

দুই গোলে পিছিয়ে বার্সা মরিয়া চেষ্টা করেছে ম্যাচে ফেরার। ৬১ মিনিটে মেসির শট ফিরিয়েছেন এস্কান্দেই, একই পরিণতি দিয়েছেন ত্রিঙ্কাওয়ের ফিরতি চেষ্টাটাকেও। ৮২ মিনিটে অ্যান্টোয়ান গ্রিজমানের স্করপিয়ন কিকটাকেও ফিরিয়েছেন দারুণ দক্ষতায়। স্প্যানিশ এই গোলরক্ষকের দারুণ দক্ষতায় যখন স্মরণীয় এক জয় দেখছে গ্রানাডা, বার্সা আঘাত হানে তখনই।

নির্ধারিত সময় থেকে তখন বাকি আর দুই মিনিট। মেসির ক্রসে তাঁর দারুণ এক শট প্রথমে পোস্টে, এরপর এস্কান্দেইয়ের পায়ে লেগে জড়ায় জালে। ব্যবধান কমায় কাতালানরা। এর পরের মিনিটেই মেসির শট পোস্টে প্রতিহত হলে আবারও দুর্ভাগ্যকেই পরিণতি মনে হচ্ছিল কোম্যানের শিষ্যদের।

তবে সেটা শেষমেশ হয়নি জর্দি আলবার কল্যাণে। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির ক্রস গ্রিজমান হয়ে আসে তার কাছে, আলতোভাবে মাথা ছুঁইয়ে দলকে সমতায় ফেরান দলকে। গ্রানাডা এরপরও অবশ্য জয় পেতে পারতো, যদি যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে গ্রানাডার বদলি খেলোয়াড় লুইস সুয়ারেজ সুযোগ নষ্ট না করতেন।

ম্যাচের একটা বড় সময় পিছিয়ে থাকা বার্সা এগিয়ে যায় ম্যাচের ১০০তম মিনিটে। আলবার যোগান থেকে লাফিয়ে করা হেডে বার্সাকে এগিয়ে দেন গ্রিজমান। নাটক তখনো শেষ হয়নি! মিনিট দুয়েক পর গ্রানাদার কার্লোস নেভাকে নিজেদের বিপদসীমায় সের্জিনিও ডেস্ট ফাউল করে বসলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। সেখান থেকে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান ভিকো।

১০৮ মিনিটে বার্সাকে ৪-৩ গোলে এগিয়ে নেন শেষ ক’দিনে নিয়মিত গোলের মুখ দেখা ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং। মেসিকে আবারও গোলবঞ্চিত রাখেন এস্কান্দেই, তবে ফ্রেঙ্কির ফিরতি চেষ্টা আর ফেরাতে পারেননি তিনি।

ম্যাচের যা ঘটে চলেছিল, তাতে এক গোলের অগ্রগামিতা যে কোনো সময়েই খোয়াতে পারতো বার্সা। সে অনিশ্চয়তাও শেষ হয় আলবার কল্যাণে। ম্যাচের ১১৩ মিনিটে মেসির শট প্রতিহত হয় গ্রানাডা রক্ষণে, তবে গ্রিজমান সেটা কুড়িয়ে পাস দেন আলবাকে, সেখান থেকেই গোল! ৫-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় কাতালানদের।

এর ফলে এক মৌসুম পর আবারও কোপা দেল রের সেমিফাইনালে উঠলেন লিওনেল মেসিরা। আজ বৃহস্পতিবার রিয়াল বেটিস ও অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের মধ্যকার চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালের পর নিশ্চিত হবে দলটির সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *