হাতটা ধরে রাখুন

দু’জন মানুষ তাদের সমস্ত সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করার ইচ্ছে নিয়েই বিয়ে নামক বন্ধনে আবদ্ধ হয়। সংসার সব সময় একইরকম মসৃণভাবে চলবে কি না সেকথা কেউ জানে না। তাই সুসময়ের পাশাপাশি দুঃসময়ও আসতে পারে, এমন মানসিক প্রস্তুতি রাখা উচিত। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে অনেকেই অনেকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কেউ কেউ হয়তো হারিয়েছেন চাকরি। এই বৈরী সময়ে সবকিছু সামলে চলা আসলেই মুশকিল।

অনেকে কর্মহীন হওয়ার কারণে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। নতুন চাকরি খুঁজে নেয়ার স্পৃহাটুকুও অবশিষ্ট থাকে না যেন। এমন ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে দাম্পত্য সম্পর্কেও। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বামীর চাকরির ওপর নির্ভরশীল থাকে পরিবার। তাই তার চাকরি চলে গেলে স্বাভাবিকভাবেই বড় একটি ধাক্কা সামলাতে হয়। এমন অবস্থায় একজন স্ত্রী বা সঙ্গী হিসেবে আপনার করণীয় কী? দুর্দিনে তার হাত ছেড়ে দিয়ে চলে যাবেন নাকি তার হাতটি ধরে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবেন? সঙ্গী মানে যেহেতু সুখে-দুখে পাশে থাকা তাই দুঃসময়েও তার সঙ্গে থাকুন। তাকে ভরসা দিন, মানসিকভাবে সুস্থ রাখার চেষ্টা করুন। তাকে বলুন, পারস্পারিক ভালোবাসা ও ভরসা থাকলে ‍সুন্দর একটি পৃথিবী গড়ে নেয়া অসম্ভব কিছু নয়।

স্থির থাকুন

হুট করে কিংবা তাড়াহুড়োয় নেয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত ভুল হওয়ার ভয় থাকে বেশি। তাই আপনার স্বামী যদি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটিও হন, তবু চেষ্টা করুন অস্থির না হওয়ার। মাথা ঠান্ডা রেখে ভাবতে হবে। কোনোরকম নেতিবাচক চিন্তা জায়গা দেবেন না মনে। নিজে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার পাশাপাশি স্বামীকেও সাহায্য করুন আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে। স্বামীর সঙ্গে কথা বলুন। তাকে ভরসা দিন। এই দুঃসময় কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় তা নিয়ে কথা বলুন। প্রত্যেক সিদ্ধান্তের পেছনে যেন যুক্তি থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

চুপ থাকুন

দুঃসময়ে সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষী চিনতে পারা যায়। আর এমন দুঃসময়ে আপনি খুব বেশি আপনজন পাবেন না পাশে। অনেকেই এই সময়ে আপনাদের সাহায্য করার বদলে কটু কথা শোনানোর চেষ্টা করবে। তাদের কথার একদমই প্রত্যুত্তর করতে যাবেন না। চুপ থাকতে শিখুন। তাদের কথার উত্তর দিয়ে যে সময়টুকু নষ্ট করতেন, সেই সময়টুকু নিজেদের জন্য ভাবুন। কী করলে ভবিষ্যত সুন্দর হতে পারে তা চিন্তা করুন। যদি সত্যিই কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী থাকে, তাদের সঙ্গে আলাপ করুন কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়া যায় তা নিয়ে।

তাকে সাহায্য করুন

সাহায্য যে কেবল আর্থিক হয় তা কিন্তু নয়। তার পাশে থাকা, তাকে ভরসা দেয়া, নতুন চাকরি খুঁজতে সাহায্য করা এসবও সাহায্যের অংশ। আপনার নিজস্ব কোনো জানাশোনা থাকলে তার মাধ্যমে চাকরি খুঁজে দিতে পারেন। যদি সম্ভব হয় তবে আপনিও কোনো কাজ খুঁজে নিতে পারেন কিংবা ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করতে পারেন। সংসারের বোঝাটা তার কাঁধ থেকে হালকা করে দিন যতটা সম্ভব।

খরচের দিকে নজর দিন

যেহেতু এই সময়ে আর্থিক অবস্থা নাজুক তাই খরচের দিকে নজর রাখতে হবে। আগের মতো খরচ না করে শুধু আবশ্যক খরচগুলো করুন, বাকিসব শখের কিংবা না হলেও চলে এমন কেনাকাটা বন্ধ রাখুন। দুঃসময় কেটে গেলে মন ভরে কেনাকাটা করতে পারবেন। সঞ্চয় থাকলে তা দিয়ে কতদিন চলা সম্ভব সেই হিসাবও করুন। পাশে থেকে হাতটা ধরে রাখলে দুঃসময় কেটে যাবে দ্রুতই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *