এখনই কি হোয়াটসঅ্যাপ ছাড়ার সময়?

চলতি মাসের শুরুতে হোয়াটসঅ্যাপ নতুন গোপনীয়তার নীতিমালা ঘোষণা করে নির্দিষ্ট একটি সময়সীমা বেধে দিয়ে ব্যবহারকারীদের জানায় যে, হয় আপনি এই নীতিমালা মেনে চলতে সম্মতি দেবেন নয়তো আপনি আর হোয়াটসঅ্যাপ চালাতে পারবেন না।

কিন্তু বার্তা আদান-প্রদানের জন্য জনপ্রিয় এই মাধ্যমটির নতুন গোপনীয়তার নীতি ব্যবহারকারীদের নিকট স্পষ্ট হয়নি। হোয়াটসঅ্যাপ ফেসবুকের কাছে কেমন তথ্য শেয়ার করবে এমন ভুল বোঝাবুঝি তাদের মধ্যে রয়েই যায়।

স্বাভাবিকভাবে এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানায় ব্যবহারকারীরা। নতুন এ নীতি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার তৈরি করে। ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত ব্যবহারকারীদের অনেকেই তাই হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা ছেড়ে দিচ্ছেন।

এহেন পরিস্থিতির মধ্যে সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ নতুন নীতিমালা সম্পর্কে বলেছে, এই নীতিমালা কার্যকর হবে শুধু ব্যবসায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যাকাউন্টগুলোর জন্য। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর তথ্য শেয়ার করার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের।

মেসেজিং অ্যাপটি কৌশলগতভাবে বলেছে, নতুন নীতিমালা ব্যবহারকারীদের চ্যাটের ওপর কার্যকর হবে না। হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহারকারীদের চ্যাট এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন দ্বারা সংরক্ষিত থাকে।

তবে হোয়াটসঅ্যাপের ওপর থেকে ব্যবহারকারীদের বিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। প্রতিযোগী মেসেজিং অ্যাপগুলো এই সুযোগে সহজেই ব্যবহারকারীদের কাছে টানছে। তারা বলছে, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের তথ্য ফেসবুকের কাছে শেয়ার করবে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ৪ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপের নতুন নীতিমালা ঘোষণার পর চলতি সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ সিগন্যাল ডাউনলোড হয়েছে ২ লক্ষ ৪৬ হাজার। হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর ও প্রোফাইল নামসহ অন্যান্য ফেসবুকের সঙ্গে তথ্য বছরে একবার শেয়ার করতে সম্মত হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য শেয়ার করবে না হোয়াটসঅ্যাপ।

হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর চ্যাটের কোনো তথ্য ফেসবুকের সঙ্গে শেয়ার করবে না। কিন্তু তারা মেটাডেটা সংগ্রহ করবে। তারা ফেসবুকের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করবে।

সামাজিক যোগযোগের মাধ্যম ফেসবুক সবসময় প্রতিশ্রুতি পূরণ করে এসেছে। ২০১৪ সালে যখন ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ কিনে নেয়, তখন ঘোষণা দিয়েছিলো দুটো সার্ভিসকে পৃথক করার। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপকে একীভূত করতে চাইছে।

মানুষ কেন টেলিগ্রামের চেয়ে সিগন্যাল বেশি ব্যবহার করছে?

এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ সিগন্যাল নিরাপদজনক হওয়ার কারণে ব্যবহারকারীরা সহজেই এর প্রতি ঝুঁকছে। বিশেষ করে সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপের গোপনীয়তার নীতিমালা প্রকাশের কারণে ব্যবহারকারীরা হোয়াটসঅ্যাপের প্রতি আস্থা হারিয়ে সিগন্যাল অ্যাপ ডাউনলোড করছে। অন্য একটি মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামও এতে লাভবান হয়েছে। তবে অ্যাপল ও অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস্টোরে সিগন্যাল সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *