যা খেলে শীত কমে

শীতের প্রকোপে জমে যাওয়ার মত অবস্থা। সোয়েটার-জ্যাকেট কাজে দিচ্ছে না। শাল জড়িয়ে কোনরকমে রক্ষা। এমন হাড়কাপানো শীতে উষুম-কুসুম আরাম পেতে খাদ্যাভাসে পরিবর্তন দরকার। খাদ্যতালিকায় চা-কফি, স্যুপ, হাসের ডিম, গাজর, কাঠবাদাম, মধু, শাক-সবজি, মশলাযুক্ত খাবার, কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার থাকলে শীতের নাকানি-চুবানি থেকে রেহাই পাওয়া সহজ হবে। শরীরও হবে ফুরফুরে।

চা-কফি

কনকনে শীতের প্রকপ থেকে নিমিশেই মুক্তি দিবে এককাপ চা বা কফি। চায়ের ক্ষেত্রে গ্রিন টি শীত তাড়াতে বেশ পটু। এর শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সঙ্গে শরীরকে উষ্ণ করে তোলে।

ডিম

শীতের সময় নিয়মিত ডিম খেলে শরীর থাকে ফুরফুরে। এতে রয়েছে নয়টি প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড। যা শরীরের ক্যালসিয়াম ও আয়রনের অভাব পুরণ করে। এছারাও জিংক, ফসফরাস সহ প্রয়োজনীয় মিনারেল তো রয়েছেই। ফলে শীতের যেকোন ধরনের সংক্রামণ থেকে রক্ষা করে শরীরকে। তাই খাদ্যতালিকায় ডিম থাকা চাই-ই-চাই।

গাজর

দিনের যেকোন সময় গাজর খাওয়া উপকারী। শীতের খাদ্যতালিকায় গাজর রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ এতে রয়েছে উচ্চ পরিমাণের বেটা ক্যারোটিন। ফলে বেশি শীতে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা কমায়। ফুসফুসই থাকে সুরক্ষায়।

কাঠবাদাম

ভরপুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় শীতের খাবার হিসাবে কাঠবাদামের বেশ কদর। এটি খাওয়ার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই শুধু বাড়ে না সঙ্গে ক্ষতিকর র‌্যডিকেলে সঙ্গে লড়াই করে শীতকালে শরীরকে ফুরফুরে করে তুলে। তাই কাঠবাদাম শীতের খাদ্যতালিকায় থাকতেই হবে।

মধু

খাঁটি মধুতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। ফলে সিজনাল জ্বর ও ঠান্ডা প্রতিরোধে মধু সবচেয় নিরাপদ। এটি ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে হারকাপুনে শীতেও শরীরকে সতেজ রাখে। তাই শীতকালের দিনটা শুরু হওয়া চাই মধু দিয়ে। বেশি ভালো হয় এক গ্লা গরম দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে।

শাক-সবজি

সবুজ পাতার শাক সবজি খাদ্যতালিকায় শীতকালে বেশ উপকারী। এতে থাকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ, সি এবং ভিটামিন কে। বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও বাড়ন্ত শিশুদের জন্য পুঁইশাক, বাধাঁকপি, পাটশাক, পালংশাক বাধ্যতামূলক। শীতকালের সবিজতে প্রচুর পরিমাণে পলিস্যাকারইড নামের শর্করা থাকায় হালকা সিদ্ধ করে খেলে ভালো।

মশলাযুক্ত খাবার

এমনিতে মশলাযুক্ত খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়, তবে শীতে একটু আধটু মশলা খাদ্যতালিকায় রাখা যেতেই পারে। মশলাযুক্ত খাবার শীতের আবহে শরীরকে উষুম কুসুম আরাম দিবে। মশলার মধ্যে জিরা, ধনিয়া বাটা, হলুদ, লবঙ্গ, পাপরিকা, গোলমরিচ, জয়ফল ও দারুচিনি ঠান্ডা কমাতে বেশ পরিপক্ক। তাই শীতে মজাদার খাবার চাই মশলাযুক্ত।

কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার

শীত মৌসুম জুড়ে খাবার তালিকায় কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া ভালো। এতে শীত শীত অনুভব কিছুটা হলেও দূর হবে। অতিরিক্ত শীতেও রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা হবে না। কার্বোহাইড্রেট শরীরের থাইরয়েড ও অ্যাড্রেনাল গ্রন্থিগুলো দ্রুত উষ্ণ করে। কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার গুলোর মধ্যে আটার রুটি, গরম ভাত, চিনি, ডাল বেশ জনপ্রিয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *