যে সময়ে মিষ্টি খেলে ওজন কমবে

মিষ্টি দেখলে খেতে মন চায় না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু এই মিষ্টি খেতে যতই মিষ্টি লাগুক, এর নানা অপকারী দিকও কিন্তু রয়েছে। বিশেষ করে যারা ওজন কমাতে চান তাদের জন্য মিষ্টি একটি আতংকের নাম। কারণ মিষ্টি খেলেই ওজন বেড়ে যায় এমনটাই ধারণা অনেকের। আর এ কারণে তারা মিষ্টি থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে চান।

যারা ওজন কমানোর লড়াইয়ে নাম লিখিয়েছেন তাদের খাবারের তালিকা থেকে মিষ্টির নাম একরকম ছেঁটেই ফেলা হয়। কিন্তু এমন সুস্বাদু খাবার দূরে সরিয়ে রাখতেও কষ্ট হয়। ওজন কমাতে চাইলে মিষ্টি কি একেবারেই বাদ দিতে হবে না-কি একটু-আধটু খাওয়া যাবে, তাই নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকেন অনেকে। প্রতিদিন অন্তত একটি মিষ্টি না খেলে দিনটিই বিস্বাদ হয়ে যায় অনেকের। তাদের জন্য করণীয় কিছু আছে কি?

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন চমকপ্রদ তথ্য। আর তা হলো, মিষ্টি খেয়েও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তারা এই বিশেষ ধরনের খাবারের পরিকল্পনার নাম দিয়েছেন ‘এগ অ্যান্ড ডেজার্ট ডায়েট’। এই ডায়েটের মূল উদ্দেশ্য হলো ওজন কমানোর পাশাপাশি বারবার খাবার খাওয়ার ইচ্ছেকে নিয়ন্ত্রণ করা। এই ডায়েট মেনে চললে কয়েক মাস পরেই উপকার মিলতে শুরু করে।

‘এগ অ্যান্ড ডেসার্ট ডায়েট’ কী করে মেনে চলবেন? এটি খুব বেশি কষ্টকর নয়। বিশেষজ্ঞরা এই ডায়েট প্ল্যানে সকালের খাবারেই মিষ্টি খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। এর কারণটাও বেশ মজার। আপনি যদি প্রতিদিন সকালের খাবারে প্রোটিন-সমৃদ্ধ ডেজার্ট খান তবে সারাদিনে বারবার ক্ষুধা লাগা বন্ধ হয়। ফলে খাই খাই ভাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।

মিষ্টি নিয়ে এই নিরীক্ষা চালানো হয় দুই দলের ওপর। যেখানে সকালের নাস্তায় একদলকে দেয়া হয় স্বাভাবিক লো কার্বস এবং অন্য দলকে সেসব খাবারের সঙ্গে দেয়া হয় একটি অতিরিক্ত মিষ্টি।

নিরীক্ষার আট মাস পর দেখা গেছে যে, দুটি দলই ওজন কমাতে সক্ষম হয়েছে। তবে প্রথম দলটি পরের চার মাসে সেভাবে আর ওজন কমাতে সক্ষম হয়নি। তাদের তুলনায় মিষ্টি খাওয়া মানুষেরাই বেশি ওজন কমিয়েছে। আর এই সমীক্ষা থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে, সকালের নাস্তায় মিষ্টি খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *