চুলে রং করলে কি ক্ষতি হয়?

চুল সুন্দর হলে তা আমাদের বাহ্যিক সৌন্দর্য অনেকটাই বাড়িয়ে তোলে। তাইতো চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে আমাদের নানারকম প্রচেষ্টা। বিভিন্ন ধরনের কাট দিয়ে কিংবা বিভিন্ন রঙে রাঙিয়ে সাজানো হয় চুল। চুলে রং যে শুধু মেয়েরা করেন তা কিন্তু নয়, ফ্যাশন সচেতন পুরুষেরাও চুলে রং করে থাকেন। দেখতে যতই সুন্দর লাগুক, চুলে রং করলে দেখা দিতে পারে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। আর একথা আমাদের অনেকেরই অজানা। চলুন জেনে নেয়া যাক চুলে রং করলে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো দেখা দিতে পারে-

অ্যালার্জির সমস্যা
আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাদের ত্বক বেশ সংবেদনশীল। আর তাই কখনো রাসায়নিকের সংস্পর্শে এলে দেখা দেয় অ্যালার্জির সমস্যা। পিপিডি হলো অ্যালার্জি উদ্রেককারী রাসায়নিক। এর প্রভাবে মাথার ত্বকে জ্বালা, চুলকানি, ফুলে যাওয়া, খুশকির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই অ্যালার্জি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গেলে ফুলে যেতে পারে চোখ। মুখ, নাক ও কানের চারপাশেও অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে।

চুল ঝরে যাওয়া
স্টাইলিং এর জন্য চুলে রং করেছেন। সবার বেশ প্রশংসাও পাচ্ছেন দেখতে সুন্দর লাগছে বলে। এদিকে চুল ঝরতে শুরু করেছে কি? যদি রং করার পরপরই চুল ঝরতে শুরু করে তবে সতর্ক হোন। কারণ রঙের ক্ষতিকর রাসায়নিক চুলের ফলিকল নষ্ট করে দিতে পারে একেবারেই। ফলে ঝরতে শুরু করে চুল। এমনকী চুলের মাঝখান থেকে ভেঙে ঝরে যেতে পারে। এই সমস্যা কমিয়ে দেয় নতুন চুল গজানোরও পরিমাণ।

দেখা দিতে পারে হাঁপানি
ভাবছেন চুলে রং করার সঙ্গে হাঁপানির কী সম্পর্ক? একথা অবাক করা হলেও সত্যি যে, অনেক সময় চুলে রং করার কারণে দেখা দিতে পারে হাঁপানির মতো সমস্যা। বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গেছে যে, চুলে নিয়মিত রং করা হলে অ্যালার্জির পাশাপাশি হাঁপানির সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে মূল ঘাতক হিসেবে কাজ করে ক্ষতিকর রাসায়নিক পিপিডি। তাই হাঁপানি থেকে বাঁচতে চুলে রং করা এড়িয়ে চলতে পারেন।

ক্যান্সারের কারণ
পিপিডি নামক ক্ষতিকর রাসায়নিক আমাদের ডিএনএ সেল নষ্ট করে ক্যান্সারের কোষ উৎপন্ন করতে পারে- এমনটাই দেখা গেছে দ্য অ্যামেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির এক গবেষণায়। এটি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে। এর ফলে স্তন ক্যান্সারের ভয় বেড়ে যায় অনেকটাই। চুলে রং করার যে রাসায়নিক মিশ্রণ তাতে এই ক্ষতিকর উপাদানের পরিমাণ খুব বেশি নয়, তবে সুস্থতার জন্য সচেতন হওয়া জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *