খেজুর গুড় খাঁটি তো?

শীতের পিঠাপুলি এত সুস্বাদু হওয়ার মূল রহস্য কী বলুন তো? ঠিক ধরেছেন, খেজুর গুড়। খেজুর গুড়ের সুগন্ধ ও স্বাদ যেন জিভে লেগে থাকে অনেক সময় ধরে। পিঠা, পায়েস ছাড়াও এই গুড় মোয়া, নাড়ু তৈরিতেও ব্যবহার করা যায়। খেজুর গুড়ের জন্য শীতের সময়টার অপেক্ষায় থাকি আমরা। কারণ এই সময়েই বাজারে খেজুর গুড়ের দেখা মেলে।

সুস্বাদু ও সুঘ্রাণযুক্ত এই গুড়ের স্বাদ আগের মতো মনে হচ্ছে না? এর মানে হতে পারে আপনি খাঁটি খেজুর গুড় চিনে কিনতে পারেননি। প্রত্যেক দোকানিই তার দোকানের গুড়কে খাঁটি দাবি করবে। তবে খাঁটি গুড় চিনে কিনতে হবে আপনাকেই।

এখন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা খেজুর গুড়ে ভেজাল মেশাচ্ছেন। গুড়ের মিষ্টতা বাড়াতে কৃত্রিম চিনি ও রং আকর্ষণীয় করার জন্য কৃত্রিম রং মেশাচ্ছেন। এসব গুড়ে আসল স্বাদ-গন্ধ তো মেলেই না, এগুলো শরীরের জন্যও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বাজার থেকে গুড় কেনার আগে তাই কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। গুড়ে ভেজাল রয়েছে কি-না তা বোঝার আছে কিছু সহজ উপায়। সেগুলো জানা থাকলে গুড় কিনতে গিয়ে আর ঠকে আসতে হবে না। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক-

স্বাদ চেখে নিন

গিয়েই হুট করে কিনে থলে ভরে নিয়ে আসবেন না। একটু যাচাই-বাছাই করে কিনুন। প্রথমে দোকানির কাছ থেকে চেয়ে নিন সামান্য গুড়। এবার সেই গুড় চেখে দেখুন। স্বাদ যদি নোনতা মনে হয় তবে বুঝে নেবেন গুড় খাঁটি নয়।

ধার পরিক্ষা করুন

খাঁটি ‍গুড় চেনার আরেকটি উপায় হলো এর ধার পরিক্ষা করা। যখন গুড় কিনবেন তখন গুড়ের ধারটা একটু চেপে দেখবেন। ধারটা নরম মনে হলে বুঝতে হবে গুড়ের মান ভালো। আর ধার যদি শক্ত ঠেকে তবে তা না কেনাই ভালো।

গুড়ের স্বাদ তিতকুটে?

গুড়ের স্বাদ ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিন। গুড় মুখে দিয়ে যদি তেতো মনে হয় তবে বুঝবেন এটি বেশি সময় ধরে জ্বাল দেয়া। ফলে স্বাদ তেতো হয়ে গেছে। আর তেতো স্বাদের গুড় দিয়ে মিষ্টি খাবার তৈরি করলে তা খেতে খুব একটা ভালো লাগবে না, তা তো বুঝতেই পারছেন।

গুড় কি খুব স্বচ্ছ?

গুড় যদি অনেকটা স্বচ্ছ হয় তবে বুঝতে হবে মিষ্টি বাড়ানোর জন্য এতে প্রচুর চিনি মেশানো হয়েছে। এতে ব্যবহৃত খেজুর রসের স্বাদ সম্ভবত খুব একটা মিষ্টি ছিল না। একটু খেয়ে দেখেলেই বুঝবেন, চিনির স্বাদ বুঝতে পারবেন। এমন গুড় না কেনাই ভালো।

রং দেখে কিনুন

খাঁটি ‍গুড় চেনার আরেকটি উপায় হলো এর রং দেখা। খেজুর গুড়ের রং সাধারণত গাঢ় বাদামি হয়। যদি দেখেন গুড়ের রং হলদেটে ধরনের তবে বুঝে নেবেন অতিরিক্ত রাসায়নিক মেশানো হয়েছে। এ ধরনের গুড় কেনা উচিত হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *