যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপদ ১০ শহর

যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে হরহামেশা মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হচ্ছে এবং সেই খবরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে চলছে আলোচনা। এসব আলোচনায় সাধারণত নেতিবাচক খবর প্রাধান্য পায়। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে কয়েকটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ শহর।

এসব শহরে স্থিতিশীলতা থাকার অন্যতম কারণ শহরের কর্তৃপক্ষের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড। এর সঙ্গে সঙ্গে সেখানে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঝুঁকি কম রয়েছে। যার ফলে এসব শহর বিশ্বের মডেল শহরের রূপ লাভ করতে সমর্থ হয়েছে।

এই পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের এমন ১০টি নিরাপদ শহর সম্পর্কে আপনাকে জানানো হবে-

১. লরেডো, টেক্সাস

লরেডো যুক্তরাষ্ট্রের বৈচিত্র্যপূর্ণ শহরগুলোর অন্যতম। এই শহরের মানুষের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা কম। আর এই কারণে শহরটিতে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি একেবারে নেই বললেই চলে। মেক্সিকো সীমান্তঘেঁষা শহরটি রিও গ্রান্ডে নদীর তীরে অবস্থিত। এই শহরে অনেকগুলো ক্যাথলিক গির্জা রয়েছে।

২. অ্যানাহেম, ক্যালিফোর্নিয়া

ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যানাহেম শহরে ডিজনিল্যান্ড থিমপার্ক রয়েছে। শহরটিতে ১৯৫৫ সালে ডিজনিল্যান্ড প্রতিষ্ঠা করার পর বিশ্বের কয়েকটি দেশে ডিজনিল্যান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে সব ছাপিয়ে এই শহরের ডিজনিল্যান্ড পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় জায়গা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। ছেলে-বুড়ো সব বয়সের মানুষ ডিজনিল্যান্ডে যায়।

৩. লেক্সিংটন, কেন্তুকি

লেক্সিংটন শহরটি কেন্তুকি অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত। শহরটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। বিশেষ করে মূল আকর্ষণ হলো কেন্তুকি হর্স পার্ক। এখানে সব বয়সের মানুষের দেখা মেলে। লেক্সিংটন শহর বিশ্বের মেট্রোপলিটন শহরগুলোর মধ্যে সেরা। শহরটি কেন্তুকি অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় শহর হিসেবে পরিচিত।

৪. বইস, ইদাহো

ইদাহো অঙ্গরাজ্যের রাজধানী এবং সবচেয়ে বড় শহর বইস। এই শহরে মানুষের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা কম। কয়েকটি মিডিয়ার খবরে দেখা গেছে, এখানে ২০১৮ সালে একটিমাত্র খুন সংঘটিত হয়েছে। এই শহরের মানুষ শান্তিপ্রিয়, তাদের জীবনযাত্রা উন্নত ও এই শহরে অনেকগুলো সরকারি স্কুল রয়েছে।

৫. ইরভিং, টেক্সাস

টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত শহরগুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয় বড় শহর। অ্যানাহেম শহরের পরে শহরটির অবস্থান। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য শহরের তুলনায় এই শহর পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। এই শহরে বড় একটি ঘোড়ার ভাস্কর্য রয়েছে। এটি শহরটির প্রাচীন ঐতিহ্য। এই কারণে শহরটি পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

৬. হেন্ডারসন, নেভাডা

নেভাডা অঙ্গরাজ্যের হেন্ডারসন শহরটির লাসভেগাসের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত। শহরটি ‘স্যাটেলাইট সিটি’ হিসেবে পরিচিত। নেভাডা অঙ্গরাজ্যের বড় শহরগুলোর অন্যতম। এই শহরের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত। শহরের মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চাকরি ও বিনোদনের সব ধরনের সুযোগ ভোগ করে থাকে।

৭. স্কটসডেল, অ্যারিজোনা

হেন্ডারসনের মতো নেভাডা অঙ্গরাজ্যের স্কটসডেল শহরটিও বড় শহর হিসেবে পরিচিত। শহরটিকে বলা হয়ে থাকে ‘মেট্রোপলিটন সিটি’। এই শহর যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর, তেমন সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ। কারণ এই শহরের মানুষের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা কম।

৮. প্লানো, টেক্সাস

টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের প্লানো শহরটি অধিক জনসংখ্যার শহর হিসেবে পরিচিত। শহরটি দ্বিতীয় মধ্যম আয়ের শহর হিসেবে পরিচিত। হেরিটেজ ফার্মস্টিড মিউজিয়ামসহ আরও আকর্ষণীয় জায়গা রয়েছে এখানে। শহরটি ঘনবসতিপূর্ণ। শহরের মানুষ উন্নত জীবনযাপন করে থাকে।

৯. ভার্জিনিয়া সমুদ্রসৈকত, ভার্জিনিয়া

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই সমুদ্রসৈকত ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় শহর হিসেবে পরিচিত। এই শহরের মানুষ মধ্যম আয়ের এবং অঙ্গরাজ্যটির মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ শহর। শহরের স্থাপত্যশৈলী মনোমুগ্ধকর। এখানে মানুষ উন্নত জীবনযাপন করে থাকে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, ভালোবাসা রয়েছে।

১০. ইরভিন, ক্যালিফোর্নিয়া

সুশোভিত ও মনোরম একটি শহরের নাম ইরভিন। শহরটি ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত। ষাটের দশকে ইরভিন কোম্পানি শহরটি স্থাপন করেছিলো। লসঅ্যানজেলস মেট্রোপলিটন এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে শহরটি অবস্থিত।

যুক্তরাষ্ট্রের এসব শহরের মানুষের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা না থাকার কারণে শহরগুলো নিরাপদ হয়ে উঠতে পেরেছে। আমরাও যদি সমাজে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তাহলে আমাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধ করতে হবে। তাহলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *