পাইলস থেকে বাঁচার উপায়

মলত্যাগে সমস্যা হলেই অনেকে তা পাইলস মনে করেন। হয়তো হজমে সমস্যা নেই, তবে বর্জ্য ত্যাগের সময় দেখা দেয় সমস্যা। অস্বস্তিদায়ক এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আগে জেনে নিতে হবে এর কারণ ও লক্ষণ। লক্ষণগুলো মিলিয়ে দেখতে হবে যে আসলেই এটি পাইলস কি-না।

যদি আপনার মলাশয়ের নিচের অংশ বা মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলে যায় তবে বুঝে নিতে হবে এটি পাইলস। পাইলস সাধারণত দুই ধরনের হয়, আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক।

আভ্যন্তরীণ পাইলস পায়ুপথ বা মলদ্বারের অভ্যন্তরে হয়ে থাকে। বাহ্যিক পাইলস পায়ুপথের বাইরের দিকে হয়। এই দুই ধরনের মধ্যে বেশি দেখা যায় বাহ্যিক পাইলস। পাইলসকে অর্শরোগও বলা হয়। পাইলস থেকে ক্যান্সার হতে পারে।

কী কারণে পাইলস হয়

পাইলস হওয়ার পেছনে থাকতে পারে অনেকগুলো কারণ। কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া, অতিরিক্ত ওজন, দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা, দীর্ঘসময় টয়লেটে বসে থাকা, হেমোরয়েড শিরায় কপাটিকার অনুপস্থিতি ও বার্ধক্য , নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া, শরীরচর্চা না করা, পেটের ভেতরে চাপ বেড়ে যাওয়া, জন্মগত, গর্ভাবস্থায় জরায়ু বড় হতে থাকা ইত্যাদি হচ্ছে পাইলসের মূল কারণ।

কোলনের শিরায় চাপ পড়ার কারণে শিরা স্ফীত হয়। ফলে দেখা দেয় পাইলস। রোগ নির্ণয়ের শুরুর দিকে যথেষ্ট সাবধানতা মেনে চললে সমস্যা দূর করা সহজ হয়। তবে সমস্যা জটিল হলে অনেক সময় অস্ত্রোপচার ছাড়া সমাধান সম্ভব হয় না।

পাইলসের লক্ষণগুলো কী?

* পাইলসের প্রধান লক্ষণ হলো মলের সাথে রক্ত পড়া। তাই এমন সমস্যা দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

* মলদ্ধারে ব্যথা এই সমস্যার অন্যতম লক্ষণ। এর ফলে বসতে গেলে অসুবিধা দেখা দেয়।

* পাইলসের সমস্যা দেখা দিলে মলদ্বারের চারপাশে ফুলে যায় ও চুলকানি হয়। এরকমটা দেখা দিলে কখনোই অবহেলা করবেন না।

* পাইলসের সমস্যা দেখা দিলে মলদ্বারের রক্তনালীতে চাপ বৃদ্ধি পায়। ফলে মল নির্গমনের সময় ব্যথা অনুভূত হয়।

পাইলস কীভাবে ভালো হয়

পাইলস কি ভালো হয়? এ নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় থাকেন। পায়ুদ্বারে যেকোনো সমস্যা দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। সাধারণত এমন সমস্যা দেখা দিলে অনেকেই গুরুত্ব দিতে চান না। আর প্রাথমিক পর্যায়ে এই অবহেলার কারণে পরবর্তীতে এটি জটিল আকার ধারণ করে। প্রথম পর্যায়ে মলম, ইনজেকশন বা রাবার ব্যান্ড লাইগেশনের সাহায্যে রোগ নিরাময় করা সম্ভব। কিন্তু সমস্যা যদি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায় তখন অবশ্য অস্ত্রোপচার ছাড়া উপায় নেই। আবার এই রোগ ফিরে আসার ভয় থাকে, যদি না বাড়তি সতর্কতা মেনে চলেন।

জীবনযপান বদলে ফেলুন

আমাদের জীবনযাপনের ধরনও অনেক অসুখের জন্য দায়ী। যেমন পাইলসের সমস্যার জন্য পরোক্ষভাবে দায়ী জীবনযাপনের ধরন। ভাজাভুজি বা প্রসেসড খাবার বাদ দিতে হবে খাবারের তালিকা থেকে। পরিবর্তে যোগ করতে হবে ফাইবারযুক্ত ফল, সবুজ শাক-সবজি, আস্ত দানাশস্য ইত্যাদি। পাশাপাশি বাড়াতে হবে পানি পানের পরিমাণ। ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলবেন। তেল-ঝালযুক্ত খাবারও যতটা সম্ভব বাদ দিতে হবে। শুকনো মরিচ পাইলসের রোগীর জন্য মোটেই ভালো নয়। ভারী কোনো জিনিসও তুলবেন না।

স্থুলতা বা অতিরিক্ত ওজনও পাইলসের সমস্যা সমাধানে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেক সময় বাড়তি মেদের কারণে পাইলসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মলত্যাগের অভ্যাস নিয়মিত করা জরুরি।

পাইলসের সমস্যা হলে পায়ুদ্বারে রক্তক্ষরণ হয়। এই সমস্যা নির্মূল করা না গেলে তা ডেকে আনতে পারে রক্তস্বল্পতার মতো অসুখ। তাই নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন সঠিক খাবার নির্বাচনের মাধ্যমে মলত্যাগের সুঅভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এর ফলে দূরে থাকা যাবে পায়ুদ্বার সংক্রান্ত যেকোনো অসুখ থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *