প্রযুক্তি ২০২০ : সামনের বছরগুলোতে যা আসছে

২০২০ সালকে আমরা খুব ভালো একটি বছর বলতে পারি না। কারণ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ক্রমান্বয়ে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মহামারীর ফলে আমরা সবাই প্রযুক্তির বেড়াজালে আটকে পড়েছি।

এই সুযোগে বড় কয়েকটি টেক কোম্পানি লাভবান হয়েছে। বিশেষ করে টেক জায়ান্ট জুম ও ডেলিভারো সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে। তবে ছোট ছোট টেক কোম্পনিগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তবে এই বছরের আলোচিত ঘটনার মধ্যে নতুন গেমসের যাত্রা শুরু, বড় কয়েকটি টেক কোম্পানির মধ্যে বাগযুদ্ধ যেমন অ্যাপলের সঙ্গে ফেসবুকের মধ্যে তীব্র মন কষাকষি উল্লেখযোগ্য।

এর মধ্যে ফেসবুকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫ এর বেশি প্রসিকিউটররা একত্রিত হয়ে ব্যবহারকারীদের তথ্য জালিয়াতির মামলা করেছে। এই পোস্টে চলতি বছরের উল্লেখযোগ্য ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করা হলো-

জানুয়ারি

অ্যাপল কর্তৃপক্ষ আইফোনের ডেটা ক্যাবল কানেকশন বদলে ফেলছে এমন অভিযোগ করেন ইউরোপীয় রাজনীতিবিদরা। এর সূত্র ধরে কয়েক মাস ধরে অ্যাপলের ব্যবহারকারীদের মধ্যে গুজব ওঠে যে আইফোন-১২ এর ডেটা ক্যাবল বদলে যেতে পারে।

ফেব্রুয়ারি

ধীরগতিতে আইফোন সার্ভিস দেয়ার কারণে ফ্রান্সকে ২৫ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা দেয় অ্যাপল কর্তৃপক্ষ। এই জরিমানা যুক্তরাষ্ট্রের টেক জায়ান্ট অ্যাপলের জন্য ছিলো বিব্রতকর। এর কারণে অ্যাপল অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।

মার্চ

করোনাভাইরাসের কারণে যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো লকডাউন শুরু হয়, তখন নেটফ্লিক্স বিট্রেট কমিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেয়। তখন ইইউ তাদের এমন ঘোষণা বাতিল করতে বললেও নেটফ্লিক্স তা শোনেনি।

এপ্রিল

কোভিড মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে অনলাইনে মহামারী সংশ্লিষ্ট অসত্য তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। আর সেই কারণে গুগল, টুইটারসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া এসব তথ্য শনাক্ত করতে পদক্ষেপ নেয়।

মে

মে মাসে টুইটার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি পোস্ট সরিয়ে দেয়। বিতর্ক এড়াতেই পোস্টটি সরিয়ে দেয় তারা। পোস্টটি ছিলো ‘হোয়েন দ্য লুটিং স্টার্টস, দ্য শুটিং স্টার্টস’।

জুন

টুইটার থেকে বিতর্কিত ব্যক্তি কেটি হপকিন্সকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। কয়েক বছর ধরে তিনি আক্রমণাত্মক পোস্ট করে আসছিলেন। তবে টুইটার কর্তৃপক্ষ তার পোস্ট মানুষের সামনে আনেনি। শুধু এটুকুই বলেছে যে ঘৃণাপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য টুইটারে স্থান দেয়া হবে না। তবে অক্টোবরে তিনি ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই কারণে ক্ষমা চেয়েছেন।

জুলাই

জুলাই মাসে যুক্তরাজ্য চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাজ্য। অক্টোবরে সুইডেন হুয়াওয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সম্প্রতি জার্মানিও হুয়াওয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। উল্লেখ্য, ডিসেম্বরে চীন ঘোষণা করেছে যে তারা ২০২১ সালে ফাইভ-জি টাওয়ার বসিয়ে তাদের প্রধান প্রধান শহরে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক স্থাপন করবে। এর সঙ্গে হুয়াওয়ে সংশ্লিষ্ট রয়েছে।

আগস্ট

আগস্ট মাসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলো লন্ডনের রিটজ হোটেল কর্তৃক পেমেন্ট কার্ড ব্যবস্থা আরোপ করার বিষয়টি। এতে সেই হোটেলের সেবাগ্রহীতারা দুর্ভোগে পড়ে।

সেপ্টেম্বর

যুক্তরাজ্যের করোনাভাইরাস সংশ্লিষ্ট অ্যাপগুলো চলতি বছরের সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের পুলিশ কর্মকর্তাদের এনএইচএস কোভিড-১৯ অ্যাপটি লাঞ্চিংয়ের আগে ব্যবহারে বিরত হতে বলা হয়েছিলো। এই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পর যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল পুলিশ চিফ কাউন্সিল এ ব্যাপারে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করে। উল্লেখ্য, অ্যাপটি ২০ দশমিক ৭ মিলিয়ন ব্যবহারকারী ডাউনলোড করেছে।

অক্টোবর

বছরের শেষের দিকে টেলিগ্রামের চ্যাট অ্যাপে আলোচিত ডিপফেক বট ইস্যু সামনে উঠে আসে। এর মাধ্যমে মহিলাদের নগ্ন ছবি তুলে কম্পিউটারে সংরক্ষণ করতে থাকে টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ।

নভেম্বর

যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলোন মাস্ক ভবিষ্যতে পডভিত্তিক ভ্রমণের জন্য একটি হাইপারলুপ তৈরি করেছেন। তবে সমালোচকদের দৃষ্টি এড়ায়নি হাইপারলুপ।

ডিসেম্বর

আরেকটি ডিপফেক ইস্যু চলতি বছর সামনে আসে আর তা হলো টিকটকে যুক্তরাজ্যের রাণীর নিম্নরুচির একটি ফেইক নাচের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। চার মিনিটের ওই ভিডিওটিতে রাণী হিসেবে যাকে দেখা গেছে প্রকৃতপক্ষে তিনি রাণী নন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *