২০২০ সালে মহাকাশে যেসব ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে

২০২০ সাল ছিলো শতাব্দির কঠিনতম একটি বছর। করোনাভাইরাস মহামারীর ফলে সারা বিশ্বে ব্যবসায়-বাণিজ্য থেমে যায়। কিন্তু তারপরও মহাকাশ বিজ্ঞানীরা বসে ছিলেন না। ২০২০ সালে মহাকাশে যেসব ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে চলুন সেসব ঘটনা জেনে নেয়া যাক-

১. শনি গ্রহে ফসফিন

১৯৬৭ সালে মহাকাশ বিজ্ঞানী কার্ল সাগান এক প্রস্তাবনায় উল্লেখ করেন যে শনি গ্রহে প্রাণের স্পন্দন থাকতে পারে। যদিও সেখানে এমন কিছু খুঁজে পাওয়া গিয়েছিলো না তখন। ১৯৭৮ সালের এক অনুসন্ধানে সাগান নিজেই সন্দেহগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন সেখানে আদৌ কোনো প্রাণী আছে কিনা। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ হয় এবং তাতে উল্লেখ করা হয় শনি গ্রহে রাসায়নিক দ্রব্য ফসফিন পাওয়া যাওয়ার ফলে নতুন করে ধারণা করা হচ্ছে সেখানে প্রাণের স্পন্দন থাকতে পারে।

২. চ্যাং ফাইভ

চীনা ন্যাশনাল স্পেস প্রশাসন পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদে সফলভাবে মহাকাশযান পাঠিয়েছে। এটি চ্যাং ফাইভ চীনা লুনার এক্সপ্লোরেশন প্রজেক্টের অংশ। এর আগে ২০১৩ সালে চাঁদে মহাকাশযান পাঠায় চীন। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে সর্বপ্রথম চাঁদে মহাকাশযান পাঠায় চীন।

৩. ওসিরিস-আরইএক্স

অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা বেনু নামে একটি উল্কাপিণ্ড নিয়ে ওসিরিস-আরইএক্স মিশন শুরু করেছে। বিজ্ঞানীরা প্রথমে মনে করেছিলো উল্কাপিণ্ডটি বেলে মাটি দ্বারা পরিপূর্ণ হবে। কিন্তু পরীক্ষার সময় দেখা গেল প্রকৃতপক্ষে তেমনটি নয়।

৪. হায়াবুসা টু

উল্কাপিণ্ড নিয়ে ওসিরিস-আরইএক্সই কেবল পরীক্ষা চালিয়েছে তা নয়। তবে এটি উল্কাপিণ্ড নিয়ে তৃতীয় পরীক্ষা। এর হায়াবুসা নামে দুটো পরীক্ষা করা হয়েছে উল্কাপিণ্ড নিয়ে। দুটো মিশনেই রিয়িগু নামে একটি উল্কাপিণ্ড নিয়ে পরীক্ষা করা হয়।

৫. ব্ল্যাকহোল

উল্কাপিণ্ডের মতো ছোট ছোট বস্তুকণা আলোর মুখ দেখেছে ২০২০ সালে। বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছে এমন অনেকগুলো বস্তুকণা। এর মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাকহোল যা সূর্যের চারপাশে রয়েছে। এগুলোর সংখ্যা যে কত তা বলা সম্ভব হয়নি।

৬. অ্যারিকিবো রেডিও টেলিস্কোপ

মহাকাশ নিয়ে গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন হয়েছে অ্যারিকিবো টেলিস্কোপ আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এর উন্মোচন করেছে। এর মধ্য দিয়ে মহাকাশে বিজ্ঞানী আরও এক নবযুগ শুরু করেছে।

৭. নাসা ও স্পেসএক্সের প্রথম বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশন

কয়েক বছর আগে ক্রিউ ড্রাগন নামে একটি মহাকাশ স্টেশন তৈরি করেছিলো স্পেসএক্স। চলতি বছর ৩০ মার্চ এখান থেকে স্পেসএক্স ফ্যালকন নাইন নামে একটি রকেট মহাকাশে পাঠানো হয়। এর মধ্য দিয়ে নাসার দুজন বিজ্ঞানী ডগলাস হার্লি ও রবার্ট বেনকেন একে বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশনে রূপ দেন।

৮. মঙ্গল গ্রহের মিশন

২০২০ সালে নাসার সবচেয়ে বড় মিশন হলো মঙ্গল গ্রহে অভিযান। চলতি বছর মঙ্গল গ্রহে দুটি অভিযান করা হয়। এই দুই অভিযান পরিচালনা করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং চীনশাসিত দেশ তাইওয়ান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *