ওগোপোগো: রহস্যজনক হ্রদ দেবতার কথা

কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া অঙ্গরাজ্যের কেলোওনা শহরে গত মাসে কয়েক দিন সময় নিয়ে ভ্রমণ করেছেন লিসা কানডানি। বিবিসিতে তার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন তিনি। তার কেলোওনা শহরে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে আজকের এই পোস্ট।

শহরের মাঝখানে অবস্থিত ৮৪ মাইল প্রশস্ত ওকনাগান হ্রদ কানাডার জনপ্রিয় একটি হ্রদ। ওকনাগান উপত্যকায় হ্রদটি সর্পাকৃতির। কেলোওনা শহরে ভ্রমণে গেলে হ্রদটির কথা শুনতেই হবে। স্থানীয়দের কাছে দৃষ্টিনন্দন এই হ্রদ খুব পছন্দের। তারা এই হ্রদে প্রায়ই ভ্রমণ করে থাকে।

কেলোওনা শহরে আন্তর্জাতিক আদিবাসী পর্যটন সম্মেলনে যাওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করলাম, কানাডায় ওগোপোগো এমন একটি দেবতা যার সূত্র ধরে ব্রিটিশ কলম্বিয়া অঙ্গরাজ্যের ১৬ শতাংশ মানুষ কানাডায় আদি বসতি স্থাপনকারী এবং ওকনাগান উপত্যকার অধিবাসীদের একটি সূত্রে বেঁধে ফেলেন। ঐতিহাসিকদের মতে, এই বিভ্রম সৃষ্টি হয়েছে এখানে ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনকারীদের দ্বারা।

ওয়েস্টব্যাংক ফার্স্ট নেশনের একজন সদস্য পাট রাফায়েল বলেন, ‘মূলত এটি কোনো দানব নয়, এটি এই হ্রদের দেবতা এবং ওগোপোগো হ্রদটিকে সবসময় রক্ষা করে এসেছে।’ রাফায়েল ওগোপোগোকে হ্রদটির পবিত্র দেবতা হিসেবে চিহ্নিত করেন।

আলোচনার এক পর্যায়ে ওগোপোগোর উৎপত্তি প্রসঙ্গ আসলে তিনি বলেন, ১৮০৯ সালে ইউরোপীয় বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দলের আসার আগে সিলিক্সগোষ্ঠী এই হ্রদে ১২ হাজার বছর বসবাস করেছে। তাদের ছিলো নিজস্ব আইন ও বিচারব্যবস্থা এবং নিজস্ব সংস্কৃতি।

তিনি আরও বলেন, ‘ইউরোপীয় মিশনারীরা যখন উপত্যকায় এসেছিলো তখন তারা এখানে তাদের উপনিবেশ স্থাপন করে।’

হ্রদের এই দানব ওগোপোগো সম্পর্কে বহু মানুষ এখানে ভ্রমণ করে থাকে। কেলোওনা শহরে অবস্থিত একটি উপত্যকার নামটিও এই দানবের নামে রাখা হয়েছে। এটি জনবহুল একটি উপত্যকা। ডিগবি বলেন, ‘ওগোপোগো উপত্যকায় যারা বসতি স্থাপন করেছিলো তারা এখানকার আদিবাসী সম্প্রদায়কে নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করেছে এবং নিজেদের গল্পকে তারা অধিক প্রচার করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানকার সবাইকে দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই এখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *